ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে কৃষক দলের বার্ষিক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে মাছ ধরার বোটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আলতাফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হবেই’ সরবরাহ কমিয়ে বোতলজাত সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট, বাজারে বাড়তি দাম মানুষ কষ্টে আছে, দেশে নিরাপত্তা নেই: জামায়াত আমীর নেশনস লিগে স্পেনের টানা তৃতীয় জয়, আবারও ঝলক ইয়ামালের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ ব্যর্থ: চাঁদাবাজি ও ভুল পরিকল্পনায় জিম্মি সড়ক শেখ হাসিনাকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না: ভারতীয় হাইকমিশনার গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, ছাদে আটকা পড়া ৭০ জন উদ্ধার

অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ডেঙ্গুতে চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চলতি মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। জ্বর, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ছড়ানো ডেঙ্গুর এই পুনরুত্থান ২০২৩ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবও চলছে, যেখানে এ বছর এক হাজার ১০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সম্প্রতি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া ৩০ বছর বয়সী পুলিশ সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ভাগ্যবান যে একটি বেড পেয়েছিলাম, কিন্তু অনেক ডেঙ্গু রোগী এখনো বেড পেতে সংগ্রাম করছেন। আমার অনেক সহকর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল এন্টোমোলজিস্ট কবিরুল বাশার জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে অক্টোবর জুড়েও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বাভাস মডেল বলছে অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

কবিরুল বাশারের মতে, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বিস্তার এখন বড় শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি দেশব্যাপী চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে বা ফগিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করা জরুরি। তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত অক্টোবরে সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ বৃষ্টিপাতের পর ডেঙ্গু বাড়তে সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ দিনের ব্যবধান থাকে। এছাড়া বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরন পরিবর্তনের ফলে মশা দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকছে এবং প্রজননের সময়ও বাড়ছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অন্তত ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। শুধু সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জন। বুধবারও ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৪৮ জন। বর্তমানে সারা দেশে ৫ হাজার ৪৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা না থাকায় চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল পানীয় এবং প্যারাসিটামলের পরামর্শ দেন, তবে গুরুতর রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, জনসচেতনতাও জরুরি। মশার প্রজনন ঠেকাতে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। অনেক এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য অভিযোগ করছেন যে, মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক মশা, কিন্তু সেগুলো নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলের জন্য কোনো উদ্যোগ দেখিনি। তার চার বছর বয়সী ছেলে সম্প্রতি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হলেও তিনি নিজেও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুতে চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চলতি মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। জ্বর, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ছড়ানো ডেঙ্গুর এই পুনরুত্থান ২০২৩ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবও চলছে, যেখানে এ বছর এক হাজার ১০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সম্প্রতি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া ৩০ বছর বয়সী পুলিশ সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ভাগ্যবান যে একটি বেড পেয়েছিলাম, কিন্তু অনেক ডেঙ্গু রোগী এখনো বেড পেতে সংগ্রাম করছেন। আমার অনেক সহকর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল এন্টোমোলজিস্ট কবিরুল বাশার জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে অক্টোবর জুড়েও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বাভাস মডেল বলছে অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তিনি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

কবিরুল বাশারের মতে, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বিস্তার এখন বড় শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি দেশব্যাপী চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে বা ফগিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করা জরুরি। তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত অক্টোবরে সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ বৃষ্টিপাতের পর ডেঙ্গু বাড়তে সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ দিনের ব্যবধান থাকে। এছাড়া বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরন পরিবর্তনের ফলে মশা দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকছে এবং প্রজননের সময়ও বাড়ছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অন্তত ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। শুধু সেপ্টেম্বরে মারা গেছেন ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জন। বুধবারও ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৪৮ জন। বর্তমানে সারা দেশে ৫ হাজার ৪৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা না থাকায় চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল পানীয় এবং প্যারাসিটামলের পরামর্শ দেন, তবে গুরুতর রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, জনসচেতনতাও জরুরি। মশার প্রজনন ঠেকাতে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। অনেক এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য অভিযোগ করছেন যে, মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক মশা, কিন্তু সেগুলো নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলের জন্য কোনো উদ্যোগ দেখিনি। তার চার বছর বয়সী ছেলে সম্প্রতি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হলেও তিনি নিজেও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin