ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু টার্নওভার কর নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও অস্বস্তির কারণ বিদেশে বাংলাদেশিদের অপরাধ: কেন বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক? রোম বিমানবন্দরে ৮ ঘণ্টা বিমানে আটকে বিড়ম্বনায় বাংলাদেশি যাত্রীরা ভারতে তিন মাসে ২৫ মুসলিম হত্যায় নিরাপত্তা বাহিনী ও হিন্দুত্ববাদীরা ২৩ বছর পর ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ফিরছে বাংলাদেশ সিলেট বিআরটিসি কাউন্টার দখলে জামায়াত নেতা, ইজারা নিয়ে বিতর্ক ৬ জেলায় চিলিং সেন্টার ইনচার্জ নিয়োগ দেবে আকিজ ডেইরি চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, রেড অ্যালার্ট জারি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিদেশে বাংলাদেশিদের অপরাধ: কেন বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন কিংবা প্রতারণার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রের ওপর বর্তায়। তবে বাস্তবতা হলো, একজন অপরাধীর কর্মকাণ্ডের ফলে অনেক সময় হাজারো নিরপরাধ বাংলাদেশি সন্দেহের তালিকায় পড়েন। সম্প্রতি পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ‘অপারেশন টাকা’ নামের অভিযানে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এক বিদেশি নাগরিককে দুই দিন আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালের জুডিশিয়াল পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গুরুতর অপরাধে জড়িত ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, মাদক, অস্ত্র ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। অপরাধের দায় কখনোই পুরো জাতির নয়, কিন্তু এই ঘটনাগুলো প্রবাসীদের জন্য বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ, কঠোর কাগজপত্র যাচাই এবং চাকরির ক্ষেত্রে সংশয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।

অপরাধ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; অনেক ক্ষেত্রেই এটি ‘ট্রান্সন্যাশনাল’ বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় রূপ নিয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অপরাধচক্র পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসীদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসন, দালালের প্রতারণা কিংবা দ্রুত অর্থবান হওয়ার সামাজিক চাপের কারণে মানুষ অপরাধের পথে পা বাড়ায়। তাই প্রবাসে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলক আইনি ও সামাজিক সচেতনতা প্রশিক্ষণ চালু করা জরুরি। একইভাবে, দূতাবাসগুলোকে পাসপোর্ট নবায়নের বাইরেও প্রবাসীদের আইনি সহায়তা, হয়রানি রোধ ও অপরাধচক্রের তথ্য বিনিময়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রবাসী কমিউনিটিরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া বা তদন্তে বাধা দেওয়া পুরো কমিউনিটির সম্মান ক্ষুণ্ণ করে। সৎ প্রবাসীরা অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিলে এবং সমাজ যদি প্রবাসীদের কেবল ‘অর্থ উপার্জনের মেশিন’ হিসেবে না দেখে তাদের নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেয়, তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অপরাধীর বিচার হোক, কিন্তু তার জন্য লাখো নিরপরাধ প্রবাসীর মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশে বাংলাদেশিদের অপরাধ: কেন বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক?

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
print news

বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন কিংবা প্রতারণার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রের ওপর বর্তায়। তবে বাস্তবতা হলো, একজন অপরাধীর কর্মকাণ্ডের ফলে অনেক সময় হাজারো নিরপরাধ বাংলাদেশি সন্দেহের তালিকায় পড়েন। সম্প্রতি পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ‘অপারেশন টাকা’ নামের অভিযানে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এক বিদেশি নাগরিককে দুই দিন আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালের জুডিশিয়াল পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গুরুতর অপরাধে জড়িত ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, মাদক, অস্ত্র ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। অপরাধের দায় কখনোই পুরো জাতির নয়, কিন্তু এই ঘটনাগুলো প্রবাসীদের জন্য বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ, কঠোর কাগজপত্র যাচাই এবং চাকরির ক্ষেত্রে সংশয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।

অপরাধ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; অনেক ক্ষেত্রেই এটি ‘ট্রান্সন্যাশনাল’ বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় রূপ নিয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অপরাধচক্র পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসীদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ অভিবাসন, দালালের প্রতারণা কিংবা দ্রুত অর্থবান হওয়ার সামাজিক চাপের কারণে মানুষ অপরাধের পথে পা বাড়ায়। তাই প্রবাসে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলক আইনি ও সামাজিক সচেতনতা প্রশিক্ষণ চালু করা জরুরি। একইভাবে, দূতাবাসগুলোকে পাসপোর্ট নবায়নের বাইরেও প্রবাসীদের আইনি সহায়তা, হয়রানি রোধ ও অপরাধচক্রের তথ্য বিনিময়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রবাসী কমিউনিটিরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া বা তদন্তে বাধা দেওয়া পুরো কমিউনিটির সম্মান ক্ষুণ্ণ করে। সৎ প্রবাসীরা অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিলে এবং সমাজ যদি প্রবাসীদের কেবল ‘অর্থ উপার্জনের মেশিন’ হিসেবে না দেখে তাদের নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেয়, তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অপরাধীর বিচার হোক, কিন্তু তার জন্য লাখো নিরপরাধ প্রবাসীর মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin