রোম বিমানবন্দরে ৮ ঘণ্টা বিমানে আটকে বিড়ম্বনায় বাংলাদেশি যাত্রীরা

- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকায় ফেরার পথে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইট। ২৫৯ জন যাত্রী নিয়ে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১৮ মিনিটে টরন্টো থেকে রওনা হয়েছিল। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর রোমে জরুরি অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। যাত্রীদের দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়, যার মধ্যে এসিও বন্ধ ছিল। বিমানে বসে প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর যাত্রীরা জানতে পারেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি উড়তে পারছে না। শুরুতে ১৫-২০ মিনিটের কথা বলে দীর্ঘ সময় পার করা হলেও পরে তাদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
ভোগান্তির এই অভিজ্ঞতা ভিন্ন ছিল পাসপোর্ট ভেদে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের হোটেলে নেওয়া হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রায় ১৭৪ জন যাত্রীকে বিমানবন্দরের লাউঞ্জ, চেয়ার এবং মেঝেতে রাত কাটাতে হয়। যাত্রী আনিকা তাসনিম জানান, তারা প্রায় ৪০ ঘণ্টা লাউঞ্জের চেয়ারে কাটিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অন-অ্যারাইভাল ভিসার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে তা কাজে লাগানো যায়নি। শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা এই পরিস্থিতিতে চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়েছে। যাত্রী সাবিনা রহমানের সঙ্গে ছিল মাত্র চার মাসের শিশু, যাকে কোলে নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। যাত্রী আরাফাত হোসেন অভিযোগ করেন, বিমান থেকে নামার পর ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো স্টাফের দেখা পাওয়া যায়নি।
রোমে আটকে থাকা যাত্রীদের স্বজনরাও ঢাকায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। শেখ বখতিয়ার হোসেন জানান, তিন দিন ধরে তার ছেলে মেহরাব বিন বখতিয়ারসহ অন্য যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। বিমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের পতাকাবাহী সংস্থার এমন সেবায় বড় ঘাটতি রয়েছে। এমনকি ৯৬ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে স্বজনরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
অবশেষে প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, শনিবার রাত ১১টায় রোম থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ইতালিতে বিমান মেরামতের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় পার্টস সরবরাহে অক্ষমতাকে এই ভোগান্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।



























