সিলেট বিআরটিসি কাউন্টার দখলে জামায়াত নেতা, ইজারা নিয়ে বিতর্ক

- আপডেট সময় : ০৯:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থিত বিআরটিসি’র প্রধান কাউন্টারটি দীর্ঘ দুই বছর ধরে জামায়াত নেতা সোহেল রানার দখলে রয়েছে। বরইকান্দির বাসিন্দা সোহেল রানা ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এই কাউন্টারটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। যদিও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নতুন ইজারাদার নিয়োগ করেছে, তবুও সোহেল রানা তার কাউন্টার থেকে সাইনবোর্ড সরিয়ে নিতে গড়িমসি করছেন।
এই কাউন্টারটি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সোনাপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন রুটে টিকিট বিক্রি ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে এখান থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর কিশোরগঞ্জের আলিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় কাউন্টারের ইজারা নেন। ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আলিম উদ্দিন অসুস্থতার অজুহাতে এলাকা ছাড়লে সোহেল রানা কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। আলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি প্রথমে সোহেল রানার সাথে চুক্তি করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত তাকে নামমাত্র টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সোহেল রানা তার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেননি এবং পাওনা টাকাও পরিশোধ করেননি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিআরটিসি’র সিলেট ডিপো ম্যানেজার মো. রোকনুজ্জামান ঢাকার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গত ১৪ই জুলাই বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে নতুন ইজারা প্রদান করেন। নতুন ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মান্নান মার্কেটে নতুন কাউন্টার চালু করেছেন। তবে সোহেল রানা এখনো জোরপূর্বক আগের কাউন্টার থেকে বাস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোহেল রানা দাবি করেছেন, তিনি সবসময় বৈধ চুক্তির মাধ্যমেই ব্যবসা করেছেন এবং কুমিল্লা রুটের দুটি বাস সার্ভিস নিয়ে দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। তবে ডিপো ম্যানেজার মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, ইজারাদারের সাথে অন্য কারো চুক্তির মাধ্যমে কাউন্টার পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ হস্তক্ষেপ করে দ্রুত কাউন্টার ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

























