ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামের দৃষ্টিতে মাটিতে বিচরণকারী যেসব প্রাণী খাওয়া নিষেধ মক্কায় বিশ্বনবীর স্মৃতিবিজড়িত পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদ ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাগান ও ঐতিহাসিক মসজিদ দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত লাইভ চলাকালে গুলিতে হত্যা, মেক্সিকোর ইনফ্লুয়েন্সারদের টার্গেট করছে কারা? আকাশ প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতার পথে ভারত, সফলভাবে পরীক্ষিত কুশা ক্ষেপণাস্ত্র আজ প্রকাশিত হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, যেভাবে জানা যাবে মগবাজারে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা: চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা ২ হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা, চোর স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল ট্রাম্পের সঙ্গে বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন নেতানিয়াহু

মক্কায় বিশ্বনবীর স্মৃতিবিজড়িত পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মক্কা নগরীর পবিত্র আঙিনায় মসজিদুল হারামের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে রয়েছে এমন বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ, যেগুলোর প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে জড়িয়ে আছে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র স্মৃতি। মক্কায় অবস্থিত এমনই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

আল-হুজুন এলাকায় অবস্থিত আর-রায়াহ মসজিদটি মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে আল-মসজিদ আল-হারাম সড়কের পাশে অবস্থিত। ইমাম বুখারি (রহ.)-এর বর্ণনামতে, মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সা.) এই নির্দিষ্ট স্থানে একটি পতাকা স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের কাছে এটি 'ক্যাট মসজিদ' নামেও পরিচিত, যদিও এই নামের সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

আর-রায়াহ মসজিদ থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে আল-জিন মসজিদ অবস্থিত, যা আল-হারাস মসজিদ নামেও পরিচিত। জিনদের একটি দলের কাছে মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতি কাজের স্মৃতি হিসেবে এটি নির্মিত হয়। রাসুল (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-কে নিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন। এই মসজিদে কোনো অলৌকিক বা ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার আশা করা অমূলক।

আল-জিন মসজিদের বিপরীতেই আশ-শাজারাহ মসজিদ অবস্থিত। মহানবী (সা.)-এর এক অলৌকিক ঘটনার স্মরণে এটি নির্মিত। ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলাম প্রচারের সময় অমুসলিমরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করলে নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে নিদর্শন চাইলে একটি গাছ তাঁর কাছে এসে সালাম জানায়। অতীতে এখানে ছোট স্মারক গম্বুজ থাকলেও বর্তমানে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ।

শুমাইসি এলাকায় মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুদাইবিয়া মসজিদ, যা বায়াত আর-রিদওয়ান মসজিদ নামে পরিচিত। হিজরি ষষ্ঠ বর্ষে সাহাবিদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর আনুগত্যের শপথের ঘটনাটি ইতিহাসে বায়াত আর-রিদওয়ান নামে খ্যাত। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে আসা কাফেলার পথ কুরাইশ বাহিনী রোধ করলে এবং ওসমান বিন আফফান (রা.)-এর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাহাবিরা রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে প্রতিশোধের শপথ নিয়েছিলেন। সেই সময় নবীজি (সা.) একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা পরে ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতকালে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে এটি মিকাত বা ইহরাম বাঁধার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মসজিদ তানঈম বা মসজিদ আল-মিকাত মসজিদুল হারাম থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। মদিনা থেকে আসা হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য এটি মক্কায় প্রবেশের মূল ফটক হিসেবে বিবেচিত হয়। মক্কার ভেতরে হামজা এবং ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর মসজিদের মতো আরও অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ থাকলেও সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কায় বিশ্বনবীর স্মৃতিবিজড়িত পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
print news

মক্কা নগরীর পবিত্র আঙিনায় মসজিদুল হারামের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে রয়েছে এমন বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ, যেগুলোর প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে জড়িয়ে আছে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র স্মৃতি। মক্কায় অবস্থিত এমনই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

আল-হুজুন এলাকায় অবস্থিত আর-রায়াহ মসজিদটি মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে আল-মসজিদ আল-হারাম সড়কের পাশে অবস্থিত। ইমাম বুখারি (রহ.)-এর বর্ণনামতে, মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সা.) এই নির্দিষ্ট স্থানে একটি পতাকা স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের কাছে এটি 'ক্যাট মসজিদ' নামেও পরিচিত, যদিও এই নামের সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

আর-রায়াহ মসজিদ থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে আল-জিন মসজিদ অবস্থিত, যা আল-হারাস মসজিদ নামেও পরিচিত। জিনদের একটি দলের কাছে মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতি কাজের স্মৃতি হিসেবে এটি নির্মিত হয়। রাসুল (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-কে নিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন। এই মসজিদে কোনো অলৌকিক বা ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার আশা করা অমূলক।

আল-জিন মসজিদের বিপরীতেই আশ-শাজারাহ মসজিদ অবস্থিত। মহানবী (সা.)-এর এক অলৌকিক ঘটনার স্মরণে এটি নির্মিত। ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলাম প্রচারের সময় অমুসলিমরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করলে নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে নিদর্শন চাইলে একটি গাছ তাঁর কাছে এসে সালাম জানায়। অতীতে এখানে ছোট স্মারক গম্বুজ থাকলেও বর্তমানে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ।

শুমাইসি এলাকায় মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুদাইবিয়া মসজিদ, যা বায়াত আর-রিদওয়ান মসজিদ নামে পরিচিত। হিজরি ষষ্ঠ বর্ষে সাহাবিদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর আনুগত্যের শপথের ঘটনাটি ইতিহাসে বায়াত আর-রিদওয়ান নামে খ্যাত। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে আসা কাফেলার পথ কুরাইশ বাহিনী রোধ করলে এবং ওসমান বিন আফফান (রা.)-এর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাহাবিরা রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে প্রতিশোধের শপথ নিয়েছিলেন। সেই সময় নবীজি (সা.) একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা পরে ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতকালে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে এটি মিকাত বা ইহরাম বাঁধার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মসজিদ তানঈম বা মসজিদ আল-মিকাত মসজিদুল হারাম থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। মদিনা থেকে আসা হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য এটি মক্কায় প্রবেশের মূল ফটক হিসেবে বিবেচিত হয়। মক্কার ভেতরে হামজা এবং ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর মসজিদের মতো আরও অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ থাকলেও সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh