ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

মহাস্থানগড়ের সীমানায় সব ধরনের নির্মাণকাজে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার সীমানার ভেতরে সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিকালে সরকারের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের হাইকোর্টের রায় সংশোধনের আবেদন জানানো হয়, যাতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রাখা যায়। এর বিপরীতে রিটকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলে এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ সরকারের আপিল দায়েরের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

মহাস্থানগড় সংরক্ষণের প্রেক্ষাপট শুরু হয় ২০১০ সালে, যখন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মানবাধিকার ও আইন সহায়তাকারী সংগঠন এইচআরপিবি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার বাইরে মহাস্থানগড়ের পূর্ব পাশে মসজিদ নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতর যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে এলাকাটি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর দীর্ঘ সময় এলাকায় বড় কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। তবে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে এলে জেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয় এবং সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নেয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে সরকারের আপিল এখন নিয়মিত শুনানির পর্যায়ে যাবে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করা যাবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

মহাস্থানগড়ের সীমানায় সব ধরনের নির্মাণকাজে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার সীমানার ভেতরে সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিকালে সরকারের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের হাইকোর্টের রায় সংশোধনের আবেদন জানানো হয়, যাতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রাখা যায়। এর বিপরীতে রিটকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলে এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ সরকারের আপিল দায়েরের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

মহাস্থানগড় সংরক্ষণের প্রেক্ষাপট শুরু হয় ২০১০ সালে, যখন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মানবাধিকার ও আইন সহায়তাকারী সংগঠন এইচআরপিবি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার বাইরে মহাস্থানগড়ের পূর্ব পাশে মসজিদ নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতর যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে এলাকাটি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর দীর্ঘ সময় এলাকায় বড় কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। তবে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে এলে জেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয় এবং সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নেয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে সরকারের আপিল এখন নিয়মিত শুনানির পর্যায়ে যাবে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করা যাবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy