মহাস্থানগড়ের সীমানায় সব ধরনের নির্মাণকাজে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার সীমানার ভেতরে সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিকালে সরকারের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের হাইকোর্টের রায় সংশোধনের আবেদন জানানো হয়, যাতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রাখা যায়। এর বিপরীতে রিটকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলে এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ সরকারের আপিল দায়েরের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
মহাস্থানগড় সংরক্ষণের প্রেক্ষাপট শুরু হয় ২০১০ সালে, যখন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ভেতরে মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মানবাধিকার ও আইন সহায়তাকারী সংগঠন এইচআরপিবি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার বাইরে মহাস্থানগড়ের পূর্ব পাশে মসজিদ নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতর যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে এলাকাটি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর দীর্ঘ সময় এলাকায় বড় কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। তবে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে এলে জেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয় এবং সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নেয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে সরকারের আপিল এখন নিয়মিত শুনানির পর্যায়ে যাবে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করা যাবে না।
























