ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরিয়ার সাবেক জেনারেল বাসাম আল-হাসানকে সুরক্ষা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন পাবনায় চায়ের দোকানে কলারুটি গলায় আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্ব ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটে ২ বছর ধরে লোকাল ট্রেন বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গ্যারেজে ময়লার গাড়ির চাপায় চালক নিহত মুক্ত হয়ে নির্যাতনের ভয়াবহ কাহিনী জানালেন সোমালি নারী সাজিয়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হাড়ের ক্ষয় ও দুর্বলতা এড়াতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ নেত্রকোনায় ফের দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির অভিযোগ, নেপথ্যে দালালচক্র ঢাকার গণপরিবহন ও যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকার মোট ৩৩০ কোটি ডলারের অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) সভায় এই ঋণের প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ঋণের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য ভূতাপেক্ষ অনুমোদনে ৩১০ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হবে। এই ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর)-এর সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদী এই ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ প্রযোজ্য হবে। ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হওয়ায় এটিকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে, যা সিস্টেম লস কমিয়ে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদী অনমনীয় ঋণের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। ছয় মাস মেয়াদী এই ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার এবং বাকি ২৫০ কোটি ডলার কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংস্থান করবে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন

আপডেট সময় : ১০:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকার মোট ৩৩০ কোটি ডলারের অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) সভায় এই ঋণের প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ঋণের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য ভূতাপেক্ষ অনুমোদনে ৩১০ কোটি ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হবে। এই ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর)-এর সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদী এই ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ প্রযোজ্য হবে। ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হওয়ায় এটিকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে, যা সিস্টেম লস কমিয়ে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদী অনমনীয় ঋণের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। ছয় মাস মেয়াদী এই ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার এবং বাকি ২৫০ কোটি ডলার কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংস্থান করবে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh