হাড়ের ক্ষয় ও দুর্বলতা এড়াতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ
- আপডেট সময় : ০১:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মানুষের শরীরের পুরো ওজন বহন করে হাড়। সোজা হয়ে দাঁড়ানো, হাঁটাচলা ও দৌড়ানোর মতো দৈনন্দিন কাজে হাড়ের ভূমিকা অপরিসীম। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভাবে অনেকেই হাড়ের ক্ষয় ও দুর্বলতায় ভোগেন। সাধারণত নারীদের হাড় পুরুষের তুলনায় কিছুটা দুর্বল থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪০ বছরের পর থেকে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। তবে সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার ও সচেতনতার মাধ্যমে হাড় শক্ত রাখা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, হাড় দুর্বল হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ব্যায়াম করা, অসচেতনতা এবং পুষ্টির অভাব। আবার অতিরিক্ত ওজনের কারণেও হাড়ের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে হাড়কে দুর্বল করে তোলে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পর হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে হাড়ের ক্ষয় বেড়ে যায়। এছাড়া কম বয়সে বেশি সন্তান জন্ম দিলে শরীরে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা হাড়ের মারাত্মক ক্ষতি করে। পুষ্টিহীনতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বংশগত শারীরিক ত্রুটি এবং হঠাৎ করে অতিরিক্ত ডায়েট বা খাবার নিয়ন্ত্রণ হাড়ের দুর্বলতার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের ওষুধ বা কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও হাড় ভঙ্গুর হতে পারে।
হাড় ক্ষয় ও দুর্বল রোগের প্রতিকার- ১. হাড়ের ক্ষয়রোধ ও সুরক্ষায় বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। হাড় শক্ত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিটামিন ডি, যার প্রধান উৎস সূর্যের আলো। তাই ঘরে বন্দি না থেকে নিয়মিত গায়ে রোদ লাগাতে হবে। এছাড়া বাতের ব্যথা, প্যারালাইসিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো রোগ থাকলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কোনো হাড় ভেঙে যাওয়ার পর জোড়া লাগলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে ব্যথা হতে পারে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকেই খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও মাংস রাখা উচিত। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক।
হাড়ের রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসকেরা কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা করা, ঘরের কাজ করা ও সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করা উচিত। গর্ভাবস্থা, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বাড়ন্ত বয়স এবং বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পর শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হাড়ের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পেশি, কোমর, ঘাড় বা পায়ে দীর্ঘদিনের ব্যথা বা অবশ ভাব থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউটিউব বা গুগল দেখে নিজে নিজে ব্যায়াম করা, ওষুধ খাওয়া বা পরীক্ষা-পরীক্ষা করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বছরে অন্তত একবার পুরো শরীরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ফুল বডি চেকআপ করানো উচিত। কারণ অনেক সময় হাড়ের ক্ষয় কোনো লক্ষণ ছাড়াই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন। যেসব নারীর বারবার গর্ভপাত হয়, তাদের পরবর্তী সন্তান নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে; কারণ গর্ভপাতের ফলে শরীর থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অপচয় হয়।



























