নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্ব
- আপডেট সময় : ০১:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বিভেদ দেখা দিয়েছে। সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধানের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আইনজীবী মহলে গুরু-শিষ্য হিসেবে পরিচিত এই দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি এখন তাদের অনুসারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচনে সভাপতি পদে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। সাখাওয়াত হোসেন খান ও তাঁর অনুসারীরা এবার আইনজীবী জাকির হোসেনকে সভাপতি পদে প্রার্থী করতে আগ্রহী। অন্যদিকে আনোয়ার প্রধান, যিনি ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমর্থনে দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি নিজেও সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চান। সাখাওয়াত হোসেন জানান, গতবারই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে যারা দুই মেয়াদে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা একই পদে পুনরায় নির্বাচন করবেন না। কিন্তু আনোয়ার প্রধান তা মানতে নারাজ।
এই বিরোধের পেছনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নিয়োগ এবং আদালত স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও ভূমিকা রাখছে। গত ২৫ আগস্ট সরকার আইনজীবী সুমন মিয়াকে বিশেষ পিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে সাখাওয়াত হোসেনের বিরোধীরা বলছেন, সুমন মিয়া সমিতির সদস্য নন, তাই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও শ্রম আদালতের স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
এই টানাপোড়েনের জেরে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আইনজীবী লাঞ্ছিত হন এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেছেন, তাঁকে অশ্লীল মন্তব্য করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় হেনস্তা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পিপি আবুল কালাম আজাদ এবং আনোয়ার প্রধানের দাবি, সাখাওয়াতের অনুসারীরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আনোয়ার প্রধানের অভিযোগ, সাখাওয়াত হোসেন এখন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং বারকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন।
এই ঘটনায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, আইনজীবীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বা হাতাহাতির ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এটি পুরো পেশার জন্য বিব্রতকর। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই জিডি বা মামলা করেনি এবং নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়নি।


























