ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমাজে বিভাজন নয়, ঐক্য বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর তজুমদ্দিনে স্পিকার গোল্ডকাপ ফুটবল উদ্বোধন, চতলা মেজর হাফিজ একাডেমির জয় জেডি ভ্যান্সের ‘চুক্তিভিত্তিক দাস’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ভারতের কর্তৃপক্ষের অবহেলা: ঘাটাইলের সাগরদীঘি বিনোদন কেন্দ্র এখন মাদকসেবীদের দখলে শান্ত ও মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ, চা বিরতিতে ২২৬/৫ দৌলতদিয়ায় বাল্কহেড থেকে দৈনিক ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ মিরপুরে চাঁদা না দেওয়ায় মারধর, উল্টো ফেঁসে গেলেন লেগুনা মালিক নোবেল জয়ের পর ট্রাম্পকে নিয়ে মজা করলেন নাভি পিল্লাই গাজীপুর সাফারি পার্কের অব্যবস্থাপনা দূর করার আশ্বাস পরিবেশমন্ত্রীর ঈশ্বরদীতে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ২৩ জন গ্রেপ্তার

৪ বছরে দেশে নতুন দরিদ্র ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশে টানা চার বছর ধরে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, যার ফলে দেশে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৮০ লাখে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট' প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকৃত আয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে দারিদ্র্য বাড়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা পরের বছর ১৮ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয় এবং ওই বছর নতুন করে ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র হন। ২০২৪ সালে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২০ শতাংশে পৌঁছালে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭ লাখে। এরপর ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং নতুন করে আরও ১৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হন। সব মিলিয়ে চলতি বছর নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন, ফলে বর্তমান দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে, চলতি অর্থবছর শেষে এই হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

দারিদ্র্যের পাশাপাশি একটি বড় জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে বসবাস করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিত্যপণ্যের দামের আকস্মিক বৃদ্ধি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার মতো যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় এই বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির এই চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকৃত মজুরির ক্ষয়, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের অভাব নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ভেঙে দিচ্ছে। সেলিম রায়হানের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মূলত দরিদ্র হয়ে যাওয়ার পর সীমিত সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে আগে থেকে সুরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২২ সালে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে গত তিন বছরে সেই ইতিবাচক ধারা পাল্টে গিয়ে দারিদ্র্য বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বিবিএসের জনশুমারি অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ এবং পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ। ওই হিসাব বিবেচনায় নিলে দেশে এখন কমপক্ষে পৌনে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তবে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক হিসাব বিবেচনায় নিলে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। বিবিএস সাধারণত খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যয় এবং দৈনিক ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাদ্যগুণসম্পন্ন খাবার কেনার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য পরিমাপ করে থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

৪ বছরে দেশে নতুন দরিদ্র ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

আপডেট সময় : ১১:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে টানা চার বছর ধরে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, যার ফলে দেশে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৮০ লাখে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক 'বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট' প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকৃত আয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে দারিদ্র্য বাড়ার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা পরের বছর ১৮ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয় এবং ওই বছর নতুন করে ৮ লাখ মানুষ দরিদ্র হন। ২০২৪ সালে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২০ শতাংশে পৌঁছালে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭ লাখে। এরপর ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং নতুন করে আরও ১৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হন। সব মিলিয়ে চলতি বছর নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন, ফলে বর্তমান দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে, চলতি অর্থবছর শেষে এই হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

দারিদ্র্যের পাশাপাশি একটি বড় জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে বসবাস করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিত্যপণ্যের দামের আকস্মিক বৃদ্ধি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার মতো যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় এই বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির এই চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকৃত মজুরির ক্ষয়, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের অভাব নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ভেঙে দিচ্ছে। সেলিম রায়হানের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মূলত দরিদ্র হয়ে যাওয়ার পর সীমিত সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে আগে থেকে সুরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২২ সালে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে গত তিন বছরে সেই ইতিবাচক ধারা পাল্টে গিয়ে দারিদ্র্য বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বিবিএসের জনশুমারি অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ এবং পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ। ওই হিসাব বিবেচনায় নিলে দেশে এখন কমপক্ষে পৌনে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। তবে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক হিসাব বিবেচনায় নিলে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। বিবিএস সাধারণত খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যয় এবং দৈনিক ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাদ্যগুণসম্পন্ন খাবার কেনার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য পরিমাপ করে থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo