ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের ফাইল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাড়ার আহ্বান ডা. ডোনারের
- আপডেট সময় : ০৪:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড সংক্রান্ত ফাইলটি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে ফার্মাসিস্টরা এই দাবি জানিয়ে আসলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অথচ এই দশম গ্রেডের উদ্যোগটি বিএনপি সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল, যা এখনো বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব সিকদার মো. জসিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী এবং ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) সভাপতি খাজা মাইন উদ্দিন মঞ্জু, মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) সভাপতি এ কে এম মুসা লিটন এতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ হালিম ডোনার আরও বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলো এখন ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে। সেখানে কতজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করবেন, সেই কাঠামো আপনাদেরই নির্ধারণ করে দিতে হবে। কোন হাসপাতালে কতজন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট করা দরকার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই ফাইলের সমাধান সম্ভব। অধিদপ্তর ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলে আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী দেশের স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, করোনা মহামারী এবং গত ৫ আগস্টের পরবর্তী বন্যা কবলিত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ফার্মাসিস্টরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে ফার্মাসিস্টদের প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করে আরও দক্ষ হতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের যৌক্তিক দাবি দ্রুতই পূরণ হবে, তবে এজন্য সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে।
ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ ও ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শয্যার আনুপাতিক হারে নতুন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়া জরুরি। দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের বিভিন্ন অঙ্গকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে নাছির উদ্দিন রতন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের দাবি পূরণের যে আশ্বাস দিয়েছে, তারা তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান। একই সাথে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে দুর্বল ওষুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য পদের কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ফার্মাসিস্টরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিনের পদোন্নতি ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে যে পদে তারা যোগদান করছেন, সেই পদ থেকেই তাদের অবসরে যেতে হচ্ছে।
বঞ্চিত ফার্মাসিস্টরা অভিযোগ করেন, নার্সদের দশম গ্রেড দেওয়া হলেও একই পদে যোগদান করে তাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। উল্টো উপজেলা পর্যায়ে আগে যেখানে দুটি পদ ছিল, এখন তা কমিয়ে একটি করা হচ্ছে। নতুন পদ সৃষ্টির পরিবর্তে উল্টো পদ বিলুপ্তির এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে তাদের দশম গ্রেডের দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
তিনি বলেন, ফার্মাসিস্টদের আরও দক্ষ হতে হবে। গক ২৫ বছরে পৃথিবী অনেক এগিয়েছে, প্রযুক্তির জ্ঞান দিয়ে ফার্মাসিস্টদের আরও নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডের দাবি দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে। আমাদের শতভাগ ইচ্ছে, যার যেটা পাওয়া যৌক্তিক, সেটা পূরণ করা। তবে একটু সময় দিতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।





























