গ্যাস সংকটে রুয়েটের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর খাবার অনিশ্চিত
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

দেশব্যাপী চলমান গ্যাস সরবরাহের সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে মিল সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে হলটির প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী চরম খাবার সংকটে পড়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গ্যাসনির্ভর হলগুলোর ডাইনিং কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যেসব আবাসিক হলে বিকল্প হিসেবে খড়ি বা লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে সাময়িকভাবে ডাইনিং চালু রাখার চেষ্টা চলছে। তবে যেসব হলে এমন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেখানে গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে রান্না চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার জানান, পশ্চিমাঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। চট্টগ্রামের এলপিজি টার্মিনাল-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই কেন্দ্রীয় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, 'যেসব হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেখানে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে অস্থায়ীভাবে বাইরে চুলা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের খাবারের কোনো সমস্যা না হয়।'
পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, চট্টগ্রামের মহেশখালী গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। দুর্ঘটনাজনিত এই সমস্যার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করায় আবাসিক ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডাইনিং বন্ধের বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর বলেন, 'কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত না করেই ডাইনিংয়ে রান্না বন্ধ করা হয়েছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের কারণে আমরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছি। বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করতে আমাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।'
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে এসব বিকল্প ব্যবস্থা কতদিন কার্যকরভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো.





























