ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির সাবেক প্রধান হারুনের বদলি ঠেকাতে কাদেরের কাছে আকুতি আতলেতিকোকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির জয়, জোড়া গোল মারমুশের বৃক্ষমেলায় ১৬ লাখ চারা বিক্রি, সফল আয়োজনে সন্তুষ্ট পরিবেশমন্ত্রী কানাডায় ভারতীয় তরুণী হিমাংশি হত্যায় ৭ মাস পর পার্টনার গ্রেপ্তার শিল্পকলা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: চিত্রকর্মে অনুপ্রাণিত নতুন উপন্যাস ২৫টি বিয়ে করে প্রতারণার অভিযোগ, বিজেপি বিধায়কের জামাতা ও বেয়াই গ্রেপ্তার শ্রীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, রেস্টুরেন্টকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা টাকায় কেনা যাবে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ, ডলার পাঠানোর নতুন নিয়ম জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসকদের অবদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি দিরাইয়ে ২৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের কমিটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির মূল দায়িত্ব হবে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করা। কাজের সুবিধার্থে কমিটি চাইলে যেকোনো নতুন সদস্যকে কো-অপ্ট বা অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবে।

কমিটিতে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছিল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত ১০ সদস্যের ওই কমিটি 'সচিব কমিটি' নামেও পরিচিত। এই কমিটি তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও এলপিজি কিনতে হচ্ছে এবং ডিজেলেও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ নেই, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারকে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

তবে বিভিন্ন ফোরামে এ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।

অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবেদন জমা দেয়। সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে এখনো নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

জুডিশিয়াল পে কমিশন পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের কমিটি

আপডেট সময় : ১০:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
print news

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির মূল দায়িত্ব হবে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করা। কাজের সুবিধার্থে কমিটি চাইলে যেকোনো নতুন সদস্যকে কো-অপ্ট বা অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবে।

কমিটিতে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করেছিল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত ১০ সদস্যের ওই কমিটি 'সচিব কমিটি' নামেও পরিচিত। এই কমিটি তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও এলপিজি কিনতে হচ্ছে এবং ডিজেলেও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ নেই, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারকে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

তবে বিভিন্ন ফোরামে এ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।

অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবেদন জমা দেয়। সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে এখনো নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor