ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির সাবেক প্রধান হারুনের বদলি ঠেকাতে কাদেরের কাছে আকুতি আতলেতিকোকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির জয়, জোড়া গোল মারমুশের বৃক্ষমেলায় ১৬ লাখ চারা বিক্রি, সফল আয়োজনে সন্তুষ্ট পরিবেশমন্ত্রী কানাডায় ভারতীয় তরুণী হিমাংশি হত্যায় ৭ মাস পর পার্টনার গ্রেপ্তার শিল্পকলা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: চিত্রকর্মে অনুপ্রাণিত নতুন উপন্যাস ২৫টি বিয়ে করে প্রতারণার অভিযোগ, বিজেপি বিধায়কের জামাতা ও বেয়াই গ্রেপ্তার শ্রীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, রেস্টুরেন্টকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা টাকায় কেনা যাবে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ, ডলার পাঠানোর নতুন নিয়ম জুলাই আন্দোলনে চিকিৎসকদের অবদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি দিরাইয়ে ২৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: চিত্রকর্মে অনুপ্রাণিত নতুন উপন্যাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত নিবিড় ও প্রাচীন। এই দুটি মাধ্যম দীর্ঘকাল ধরেই একে অপরকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে আসছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রকাশিত বেশ কিছু নতুন উপন্যাসে এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। চিত্রকলা, শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম এবং শিল্পের ইতিহাসকে উপজীব্য করে সমসাময়িক লেখকেরা সৃষ্টি করেছেন অভিনব সব গল্প ও চরিত্র।

এই ধারার উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ হলো লেখক অ্যালেক্স হাইডের ‘এক্সিবিশন’। ১৯৯০-এর দশকের লন্ডনের ‘ইয়াং ব্রিটিশ আর্টিস্টস’ বা ওয়াইবিএ আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসের কাহিনী। এখানে শিল্পকর্মের মালিকানা, সৃষ্টিশীলতার মূল্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপন্যাসটি রচনার সময় হাইড নিয়মিত লন্ডনের টেট ব্রিটেনে যেতেন ব্রিটিশ শিল্পী ট্রেসি এমিনের শুরুর দিকের মনোপ্রিন্টগুলো দেখতে। সেই শিল্পকর্মগুলোর সামনে বসে লেখার সময় ধীরে ধীরে ছবির অনুভূতিগুলো তাঁর লেখার পরতে পরতে মিশে যায়।

একইভাবে শিল্পের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় রেবেকা বিরেলের ‘ভেনাস, ভেনেশিং’ উপন্যাসে। ১৯৩০-এর দশকের বার্লিনে হান্না নামের এক তরুণ ইহুদি নারী শিল্পীর জীবনকে কেন্দ্র করে এই বইটি রচিত হয়েছে। লেখক বিরেল মূলত শিল্প-ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের হারিয়ে যাওয়া ইহুদি নারী শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের অনেকেরই শিল্পকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাঁদের সম্পর্কে খুব কম তথ্যই অবশিষ্ট রয়েছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকেই তিনি তাঁর উপন্যাসের উপজীব্য করেছেন।

শিল্পকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনার এই চমৎকার প্রবণতা অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত লেখক বালজাক, জোলা এবং প্রুস্তও চিত্রকলা থেকে লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। এছাড়া ট্রেসি শেভালিয়েরের ‘গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়াররিং’ এবং ডোনা টার্টের ‘দ্য গোল্ডফিনচ’ হলো নির্দিষ্ট কোনো শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে লেখা বিশ্বখ্যাত উপন্যাসের অনন্য উদাহরণ।

বর্তমান সময়ের লেখকেরা চিত্রকলাকে কেবল গল্পের একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না; যা তাঁদের সৃষ্টির সূচনা ও কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের কাছে একটি ছবি কখনো নতুন চরিত্রের জন্ম দেয়, কখনো ইতিহাসকে নতুন আলোয় দেখার সুযোগ করে দেয়, আবার কখনো লেখার গভীরে নতুন সব প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: চিত্রকর্মে অনুপ্রাণিত নতুন উপন্যাস

আপডেট সময় : ১১:২০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
print news

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত নিবিড় ও প্রাচীন। এই দুটি মাধ্যম দীর্ঘকাল ধরেই একে অপরকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে আসছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রকাশিত বেশ কিছু নতুন উপন্যাসে এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। চিত্রকলা, শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম এবং শিল্পের ইতিহাসকে উপজীব্য করে সমসাময়িক লেখকেরা সৃষ্টি করেছেন অভিনব সব গল্প ও চরিত্র।

এই ধারার উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ হলো লেখক অ্যালেক্স হাইডের ‘এক্সিবিশন’। ১৯৯০-এর দশকের লন্ডনের ‘ইয়াং ব্রিটিশ আর্টিস্টস’ বা ওয়াইবিএ আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসের কাহিনী। এখানে শিল্পকর্মের মালিকানা, সৃষ্টিশীলতার মূল্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপন্যাসটি রচনার সময় হাইড নিয়মিত লন্ডনের টেট ব্রিটেনে যেতেন ব্রিটিশ শিল্পী ট্রেসি এমিনের শুরুর দিকের মনোপ্রিন্টগুলো দেখতে। সেই শিল্পকর্মগুলোর সামনে বসে লেখার সময় ধীরে ধীরে ছবির অনুভূতিগুলো তাঁর লেখার পরতে পরতে মিশে যায়।

একইভাবে শিল্পের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় রেবেকা বিরেলের ‘ভেনাস, ভেনেশিং’ উপন্যাসে। ১৯৩০-এর দশকের বার্লিনে হান্না নামের এক তরুণ ইহুদি নারী শিল্পীর জীবনকে কেন্দ্র করে এই বইটি রচিত হয়েছে। লেখক বিরেল মূলত শিল্প-ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের হারিয়ে যাওয়া ইহুদি নারী শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের অনেকেরই শিল্পকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাঁদের সম্পর্কে খুব কম তথ্যই অবশিষ্ট রয়েছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকেই তিনি তাঁর উপন্যাসের উপজীব্য করেছেন।

শিল্পকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনার এই চমৎকার প্রবণতা অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত লেখক বালজাক, জোলা এবং প্রুস্তও চিত্রকলা থেকে লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। এছাড়া ট্রেসি শেভালিয়েরের ‘গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়াররিং’ এবং ডোনা টার্টের ‘দ্য গোল্ডফিনচ’ হলো নির্দিষ্ট কোনো শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে লেখা বিশ্বখ্যাত উপন্যাসের অনন্য উদাহরণ।

বর্তমান সময়ের লেখকেরা চিত্রকলাকে কেবল গল্পের একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না; যা তাঁদের সৃষ্টির সূচনা ও কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের কাছে একটি ছবি কখনো নতুন চরিত্রের জন্ম দেয়, কখনো ইতিহাসকে নতুন আলোয় দেখার সুযোগ করে দেয়, আবার কখনো লেখার গভীরে নতুন সব প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin