ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তিতে নতুন রেকর্ড ১০ বছরে পা দিল আব্রাম, ছেলের জন্মদিনে আবেগপ্রবণ অপু মিরপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সহিংসতার নিন্দা জানাল ফ্রান্স এশিয়ান গেমসে আর্চারিতে সম্ভাবনা জাগিয়েও শূন্য হাতে বাংলাদেশ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৪১৩তম পর্ষদ সভায় বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়েছিল এমি রসমের কোহলির মাইলফলক ও গিলের সেঞ্চুরি: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে ভারতের জয় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কটিয়াদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল চুয়েটে ‘৫৬?’ লেখা কার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা

টাঙ্গাইলের চিকিৎসাসেবা জিম্মি স্বাচিপের দখলে, ব্যাহত জনস্বাস্থ্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ বর্তমানে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাচিপের ব্যাপক আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান। এর ফলে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সদস্যসহ মেধাবী চিকিৎসকরা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো স্বাচিপ নেতাদের দখলে। বর্তমান সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু স্বাচিপের আজীবন সদস্য। এ ছাড়া ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক, মেডিকেল অফিসার আবু জাফর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান এবং প্রকল্প পরিচালক নুরুল আলম মিঞাসহ অধিকাংশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্বাচিপের সদস্য। জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই এই সংগঠনের সাথে যুক্ত। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও পদায়ন পাওয়া ১৪৫ জনের মধ্যেও আওয়ামী সুবিধাভোগীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতালগুলোতে ওষুধের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪৫০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৭৭টিই শূন্য। বর্তমানে কর্মরত ২৭৩ জনের বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯০টি পদের বিপরীতে ৬৩ জন এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ পদের বিপরীতে ৫৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩৯টি পদ শূন্য এবং বাকি পদগুলোতে দায়িত্বরত অধিকাংশ চিকিৎসকই আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন জানান, জেলার স্বাস্থ্যসেবা এখনো স্বাচিপ ও সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের কব্জায় থাকায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক সমাজ ৫ আগস্টের পর থেকে জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা ও গণহত্যার মদদদাতা হিসেবে ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তার তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের অনেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন। সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি স্বাচিপের সদস্য নন এবং ঘাটাইল ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৫৫আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৫৭

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলের চিকিৎসাসেবা জিম্মি স্বাচিপের দখলে, ব্যাহত জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ বর্তমানে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাচিপের ব্যাপক আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান। এর ফলে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সদস্যসহ মেধাবী চিকিৎসকরা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো স্বাচিপ নেতাদের দখলে। বর্তমান সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু স্বাচিপের আজীবন সদস্য। এ ছাড়া ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক, মেডিকেল অফিসার আবু জাফর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান এবং প্রকল্প পরিচালক নুরুল আলম মিঞাসহ অধিকাংশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্বাচিপের সদস্য। জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই এই সংগঠনের সাথে যুক্ত। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও পদায়ন পাওয়া ১৪৫ জনের মধ্যেও আওয়ামী সুবিধাভোগীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতালগুলোতে ওষুধের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪৫০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৭৭টিই শূন্য। বর্তমানে কর্মরত ২৭৩ জনের বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯০টি পদের বিপরীতে ৬৩ জন এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ পদের বিপরীতে ৫৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩৯টি পদ শূন্য এবং বাকি পদগুলোতে দায়িত্বরত অধিকাংশ চিকিৎসকই আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন জানান, জেলার স্বাস্থ্যসেবা এখনো স্বাচিপ ও সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের কব্জায় থাকায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক সমাজ ৫ আগস্টের পর থেকে জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা ও গণহত্যার মদদদাতা হিসেবে ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তার তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের অনেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন। সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি স্বাচিপের সদস্য নন এবং ঘাটাইল ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৫৫আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৫৭

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh