ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ ইনফান্তিনোর, তবুও ফিফার নেতৃত্বে বহাল

- আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনার ঘটনায় নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মরক্কোর রাবাতে অবস্থিত ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে আয়োজিত এই বৈঠকের চার ঘণ্টা পরই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে।
ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা 'অস্বচ্ছ' এবং 'গোপন কক্ষের চুক্তি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। শুধু উয়েফা নয়, ফিফার অভ্যন্তরীণ পর্যায় থেকেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। খোদ ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম মঙ্গলবার কর্মীদের পাঠানো এক স্মারকে পুরো পরিস্থিতিকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে বুধবারের বৈঠকের পর গ্রাফস্ট্রমসহ ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রম ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, কাউন্সিল এবং সহ-সভাপতিদের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইনফান্তিনোর পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফই-এর মাধ্যমে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বিনিয়োগের সমর্থন দিলে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব ছিল। ফিফা স্বীকার করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফা কাউন্সিলকে বাদ পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল। এছাড়া ২৮ জুলাই দ্য টাইমস-এ খবরটি ফাঁস হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতেও কিছু ভুল হয়েছিল বলে সংস্থাটি মেনে নিয়েছে।
তবে ফিফা স্পষ্ট করেছে যে, সংস্থার সুশাসন ও সততা নিয়ে কোনো ধরনের আক্রমণ তারা সহ্য করবে না এবং নিজেদের সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এর আগে দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মরক্কোর সমর্থনের বিনিময়ে ইনফান্তিনো দেশটিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিফা এই দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, ফাইনাল ভেন্যুর সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেয়া হবে।
ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে উয়েফা, এমনকি তারা আইনি পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছে। এছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এবং লুইস ফিগোর মতো ব্যক্তিত্বরা তার সমালোচনা করেছেন। লুইস ফিগো তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন। এসব চাপের মুখেও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে তাকে পুনরায় জিততে হলে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ১০৬টি ভোট পেতে হবে। ফিফার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যা করা হয়েছে তা তাদের বিধিমালার অনুসরণেই করা হয়েছে এবং এই বৈঠকের ফলাফল সংস্থার সুশাসনকে শক্তিশালী করবে।



























