জোড়া গোলে মেসির রেকর্ড, লিগস কাপে ইন্টার মায়ামির দুর্দান্ত জয়

- আপডেট সময় : ১০:০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপের বিরতি কাটিয়ে ইন্টার মায়ামির শুরুর একাদশে ফিরেই নিজের চেনা ছন্দে দেখা দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তার দুর্দান্ত জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়েও ৪-২ ব্যবধানের দারুণ জয় পেয়েছে তার দল। এই জয়ের মাধ্যমে নতুন মৌসুমের লিগস কাপের প্রথম ম্যাচে আতলেতিকো দে সান লুইসকে উড়িয়ে দিয়ে শুভসূচনা করল ইন্টার মায়ামি।
বুধবার মায়ামির ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। মাত্র চতুর্থ মিনিটে দাভিদ রদ্রিগেসের হেড মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভোকে পরাস্ত করলে এগিয়ে যায় সফরকারী সান লুইস। তবে প্রতিপক্ষের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মেসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নোয়া অ্যালেনের বাঁ দিক থেকে বাড়ানো চমৎকার ক্রসে দর্শনীয় ভলিতে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান তিনি। বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবে ফেরার পর এটি ছিল মেসির দ্বিতীয় ম্যাচ, তবে শুরুর একাদশে এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ।
মেসির অনুপস্থিতিতে মেজর লিগ সকারে দলের হাল ধরেছিলেন উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজ। তবে এই ম্যাচে তাকে পায়নি মায়ামি। গত মৌসুমের লিগস কাপের ফাইনালে সিয়াটলের এক স্টাফ সদস্যের দিকে থুতু ছিটানোর দায়ে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে সুয়ারেজের। ফলে এবারের পুরো আসরেই মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে।
সুয়ারেজের অনুপস্থিতির দিনেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মায়ামি। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে নোয়া অ্যালেনের পাস থেকে জোরালো শটে মায়ামিকে এগিয়ে নেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। এই গোলটিতেও অবদান ছিল মেসির। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। আবারও অ্যালেনের পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে লিগস কাপের ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। ২০২৩ সালে এই প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানোর পর থেকে এটি ছিল মেসির ১৪তম গোল, যা লিগস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তিনি টপকে গেছেন দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেনি বুয়াঙ্গাকে (১৩ গোল)। এছাড়া এই টুর্নামেন্টে ১২ ম্যাচে এটি মেসির পঞ্চম জোড়া গোলের কীর্তি। একই ম্যাচে নোয়া অ্যালেনও ব্যক্তিগত এক রেকর্ড গড়েছেন; নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে তিনটি অ্যাসিস্ট করার কৃতিত্ব দেখালেন এই তরুণ।
প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে মায়ামির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন মিকায়েল। ফলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পর রাফা লোরেন্তের দূরপাল্লার এক দর্শনীয় গোলে ব্যবধান কমায় সান লুইস। এরপর ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ থাকে। খেলা পুনরায় শুরু হলেও সান লুইস আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা।
ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মাতেও সিলভেত্তি বাম হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ পড়ে মায়ামি শিবিরে। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে মেসির নেতৃত্বে টানা চার ম্যাচ জিতে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিজেদের শীর্ষস্থান মজবুত করেছিল ইন্টার মায়ামি। ২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তার নেতৃত্বেই প্রথম লিগস কাপের শিরোপা জিতেছিল দলটি। লিগস কাপে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী শনিবার মনতেরেইয়ের মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে আগামী রোববার ন্যাশভিলের বিপক্ষে মাঠে নামবে আতলেতিকো দে সান লুইস।




























