গবেষণায় জালিয়াতি: কেবল অসাধুতা নয়, কাঠামোগত দুর্বলতাই মূল কারণ

- আপডেট সময় : ১০:৫১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে গবেষণার মান ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চৌর্যবৃত্তি, তথ্যগত অসংগতি, চিত্রবিকৃতি এবং ডুপ্লিকেট প্রকাশনার মতো গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলো থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে কেবল কয়েকজন অসাধু গবেষকের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে মূল সমস্যাটি আড়ালেই থেকে যাবে। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রবার্ট মার্টন ১৯৩০-এর দশকে 'অ্যানোমি' (anomie) নামক যে ধারণার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা এখানে প্রাসঙ্গিক। যখন একটি সমাজ তার সদস্যদের ওপর সাফল্যের লক্ষ্য বা পদোন্নতির মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষা চাপিয়ে দেয়, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ উপায় নিশ্চিত করতে পারে না, তখন এক ধরনের সামাজিক চাপ বা 'স্ট্রেইন' তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেকে 'উদ্ভাবক' (innovator) হিসেবে আবির্ভূত হন, যারা মূল লক্ষ্য অক্ষুণ্ণ রাখলেও তা অর্জনের জন্য শর্টকাট বা অনৈতিক পথ বেছে নেন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে এই পরিস্থিতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গবেষকদের ওপর আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনার কঠোর চাপ থাকলেও, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রয়োজনীয় সময় এবং দক্ষ জনবল সমানভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, যা কাঠামোগত সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।

























