ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জড়তা কাটাতে শুটিংয়ের আগে গালিগালাজের অনুশীলন করেছিলেন দীপিকা দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এক্সিট সম্পন্ন করল স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চান ট্রাম্প, ‘মানুষ হত্যা করতে চান না’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই আনসার বাহিনীর প্রধান কর্তব্য: ডিজি গ্যাস সংকটে লোকসানের মুখে সিএনজি স্টেশন, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ না ফেরার দেশে প্রবীণ বলিউড অভিনেতা প্রদীপ সিং রাওয়াত সরকার উৎখাতের চেষ্টা করলে নিজেরাই উৎখাত হবেন: আবুল খায়ের উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে

গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন স্থায়ী করতে প্রয়োজনে লড়াইয়ের অঙ্গীকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন স্থায়ী করাই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আত্মাহুতি দেয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। বুধবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যারা দৃষ্টি ও অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সুস্থ করে তোলার বিষয়টিও সরকারকে পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা সূচক ক্রেস্ট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত, যেখানে নাগরিকরা সমান মর্যাদা পাবেন। নতুন এই যাত্রায় মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। কোনো বিদ্বেষ বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন জাতীয় অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ হতে চাই না। খুন, গুম, মানিলন্ডারিং ও আয়নাঘরের মতো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তাদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে এলে রাজপথে দেখা হবে। তিনি নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, প্রয়োজনে ৮২ বছর বয়সে দেশের জন্য আরেকটি যুদ্ধ করবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গৌরবের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের মতো উদ্ধত সঙ্গিনের সামনে দুই হাত তুলে দাঁড়ানোর মতো সাহস বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকের নেই। আহত যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছেন তারাও হয়তো অনেক কিছু পাননি, জুলাইযোদ্ধারাও হয়তো সবকিছু পাবেন না, তবে সরকার তাদের যথাযথ সম্মান ও সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণে কাজ করবে।

গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, যতদিন গণতন্ত্র ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিন দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এনাম, তাইম, নাইমা ও শিশু ইয়াকুবসহ হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত। সবশেষে তিনি আহতদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য চোখ হারানো কোনো তরুণের পরিবারকে মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘোরা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন স্থায়ী করতে প্রয়োজনে লড়াইয়ের অঙ্গীকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
print news

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আত্মাহুতি দেয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। বুধবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যারা দৃষ্টি ও অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সুস্থ করে তোলার বিষয়টিও সরকারকে পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা সূচক ক্রেস্ট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত, যেখানে নাগরিকরা সমান মর্যাদা পাবেন। নতুন এই যাত্রায় মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। কোনো বিদ্বেষ বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন জাতীয় অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ হতে চাই না। খুন, গুম, মানিলন্ডারিং ও আয়নাঘরের মতো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তাদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে এলে রাজপথে দেখা হবে। তিনি নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, প্রয়োজনে ৮২ বছর বয়সে দেশের জন্য আরেকটি যুদ্ধ করবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গৌরবের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের মতো উদ্ধত সঙ্গিনের সামনে দুই হাত তুলে দাঁড়ানোর মতো সাহস বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকের নেই। আহত যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছেন তারাও হয়তো অনেক কিছু পাননি, জুলাইযোদ্ধারাও হয়তো সবকিছু পাবেন না, তবে সরকার তাদের যথাযথ সম্মান ও সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণে কাজ করবে।

গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, যতদিন গণতন্ত্র ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, ততদিন দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এনাম, তাইম, নাইমা ও শিশু ইয়াকুবসহ হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত। সবশেষে তিনি আহতদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য চোখ হারানো কোনো তরুণের পরিবারকে মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘোরা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin