আস্থা ফেরাতে কঠিন সত্য স্বীকারের আহ্বান জাতিসংঘ সভাপতির
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে এমন এক সন্ধিক্ষণ পার করছে যেখানে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের মতো সংকটগুলোকে আর বিচ্ছিন্ন বা সাময়িক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মতে, এসব সংকট পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। তাই কেবল সংকট তৈরি হলে প্রতিক্রিয়া দেখানোই যথেষ্ট নয়, বরং সংকট সৃষ্টির পেছনে থাকা ব্যবস্থাগুলোতেও আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ড. খলিলুর রহমানের মতে, জাতিসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে সংস্থাটিকে নিজেদের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার কঠিন সত্য স্বীকার করে নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আস্থা কেবল কথার মাধ্যমে ফিরে আসে না, বরং কাজের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়। বহুপক্ষীয় সহযোগিতাই জাতিসংঘের মূল শক্তি হলেও, বর্তমানে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান আস্থা দুর্বল করে তুলছে, তাই কথার চেয়ে কাজের ফলাফল দেখানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি মেনে আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির পথ খুঁজতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ভয় থেকে রক্ষা করার মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। খলিলুর রহমান বলেন, উন্নয়নকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকে বিচার না করে মানুষের মর্যাদা ও সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিবেচনা করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য, ঋণের চাপ ও খাদ্য নিরাপত্তার সংকট মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, বরং এর প্রভাব এখনই অনুভূত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতি ছাড়িয়ে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া মানবাধিকার রক্ষাকে কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে নারী, শিশু ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার নিশ্চিতে বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।



























