সি চিন পিংয়ের সফর: বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভারসাম্য
- আপডেট সময় : ০১:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি। আগামী বৃহস্পতিবার সিকে স্বাগত জানাতে ট্রাম্প নিজেই জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিতে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সাধারণত এ ধরনের প্রথাগত অভ্যর্থনায় দেখা যায় না, যা এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০১৬ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে ওয়াশিংটন সফরে সি চিন পিংকে সাক্ষাতের জন্য যে অপেক্ষা করতে হয়েছিল, এবারের দৃশ্যপট তার চেয়ে একেবারেই ভিন্ন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের বিষয়টিও বৈঠকে বড় প্রভাব ফেলবে। মধ্যপ্রাচ্যে চীনের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ইরান। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি ওয়াইনের মতে, ইরান ইস্যুতে চীনকে অসন্তুষ্ট করার মতো কোনো পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র অনাগ্রহী। ট্রাম্প বারবার ইরানের প্রতি চীনের সমর্থনের বিষয়টিকে খাটো করে দেখিয়েছেন এবং চীনের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেননি।
চায়না স্ট্র্যাটেজিক রিস্কস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরিচালক স্যাম গুডম্যানের মতে, সব দিক বিবেচনা করলে বর্তমানে চীনই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়ের চাপ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে, ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাইছেন। একই স্থিতিশীলতা বেইজিংয়ের জন্যও সুবিধাজনক।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে চীন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর আগের মতো প্রভাবশালী অবস্থায় নেই। তাই ২০১৬ সালের তুলনায় চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভারসাম্য বদলেছে। এবার সি চিন পিং এমন এক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন, যাকে ট্রাম্প এখন প্রায় সমকক্ষ শক্তি হিসেবেই স্বীকার করেন।





























