ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত, হরমুজ নিয়ে নতুন প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ০২:৪০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্রায় সাত মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসানে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই উত্তেজনা নিরসনে তেহরান জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং সামরিক চাপ কমিয়ে আনে, তবে তারা সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে; মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র এতে আগ্রহী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা ও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যদিও গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ ছিল, তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সংঘাত ও অবরোধ পুনরায় শুরু হয়। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই অস্থিরতা নিরসনে এতদিন কোনো কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই, তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে আলোচনা পুনরায় শুরুর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। রুবিও মনে করেন, ট্রাম্প একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচনার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং ট্রাম্প তাদের ওপর ক্ষমতা চাপিয়ে দিতে পারবেন না। অন্যদিকে, ট্রাম্প উপসাগরীয় ছয়টি আরব দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক দেখতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অনুরোধে রাজকীয় বিমানবাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে। এটি মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের পথগুলো সচল রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।





























