গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও সাংবাদিকরা যৌথভাবে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের ওপর বর্তমানে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংবাদিক, মালিক এবং সরকার যৌথভাবে কাজ করে চলেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেমন স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তেমনি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, আবার স্বাধীন গণমাধ্যমই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলে।
গণমাধ্যমকে কেবল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতা অন্য সব পেশার চেয়ে আলাদা। এটি সমাজের অঘোষিত চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে এর জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও মুনাফা না পায়, তবে এই শিল্প টেকসই হবে না। এছাড়া শক্তিশালী উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া বিজ্ঞাপন বাজারও বড় হবে না।
বর্তমান পরিবর্তিত বাস্তবতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মিডিয়া ইকোসিস্টেম আরও জটিল হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন যাতে সবার অধিকার নিশ্চিত হয়। সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে গণমাধ্যম ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, যা স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং গত নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। টিইসির আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু।



























