ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মনোয়ারুলের মৃত্যু: পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, পীরগাছায় থানা ঘেরাও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে জো বাইডেনের ক্যানসার অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে তাইজুলের চোট নিয়ে স্বস্তির বার্তা আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি ঘোষণা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক চান মামুনুল হক সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় নৌকা থেকে পড়ে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু বৃটেনে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ মাত্র তিন বছরে জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৬-৭ শতাংশে নিতে চায় সরকার ত্রুটিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজউক

হাসিনা সরকারের পতনের ‘১ দফা’ যেভাবে এসেছিল, জানালেন রাশেদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে থাকা ‘এক দফা’ আন্দোলনের ঘোষণা কীভাবে এসেছিল, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই আন্দোলনের নেপথ্য ইতিহাস ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন রাশেদ।

রাশেদের বিবরণ অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৮ জুলাই ছিল জুলাই গণহত্যার তৃতীয় দিন, যেদিন অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। ওই দিন সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আহনাফ সাঈদ খান তাকে ফোন করেন। আহনাফ তাকে বলেন, বিএনপি ও সব রাজনৈতিক দলকে মাঠে নামতে বলেন। এবার সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে যেতে হবে। এত হত্যার পরে আর কোটা সংস্কার আন্দোলন হতে পারে না।

এর আগের ঘটনা উল্লেখ করে এই নেতা জানান, আন্দোলন চলাকালেই তিনি আসিফ মাহমুদকে জানিয়ে রেখেছিলেন যে, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন ও অংশগ্রহণ রয়েছে। যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমর্থন প্রয়োজন হলে তিনি তা ব্যবস্থা করতে পারবেন। তখন আসিফ মাহমুদ তাকে জানিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতির কারণে তিনি কখন কোথায় থাকবেন তা নিশ্চিত নয়, তাই আহনাফ তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন। সেই সূত্র ধরেই আহনাফ ১৮ জুলাই রাশেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

রাশেদ যখন আহনাফকে জিজ্ঞেস করেন যে এটি কি শুধু তার ব্যক্তিগত মতামত নাকি আসিফ মাহমুদসহ সবার সিদ্ধান্ত, তখন আহনাফ নিশ্চিত করেন যে এটি তাদের সবারই যৌথ সিদ্ধান্ত। আহনাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই হত্যার একমাত্র প্রতিশোধ শেখ হাসিনার পতন। আপনি আস্থা রাখেন, ১ দফার ঘোষণা আসবেই।

এই কথোপকথনের পর রাশেদ বিষয়টি তৎকালীন বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে জানান। তিনি সালাউদ্দিন আহমেদকে বলেন যে, ছাত্ররা তো বিএনপি ও সব দলকে মাঠে নেমে যেতে বলে, তারা ১ দফার ঘোষণা দেবে। জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদও সহমত পোষণ করে বলেন, দেখো এত হত্যার পরে তো কোটা সংস্কার আন্দোলন আর করা যায় না। তারা সত্যিই ১ দফার ঘোষণা দিলে, এবার বিএনপি শেষ লড়াইটা লড়বে।

এরপর সালাউদ্দিন আহমেদ বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে সরকার পতনের নেপথ্যের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। রাশেদ দাবি করেন, এটিই জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয় ছাত্র নেতাদের আহ্বানে বিএনপিই করেছে এবং ইতিহাস স্বীকার করতে কষ্ট হলেও এটিই সত্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসিনা সরকারের পতনের ‘১ দফা’ যেভাবে এসেছিল, জানালেন রাশেদ

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
print news

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে থাকা ‘এক দফা’ আন্দোলনের ঘোষণা কীভাবে এসেছিল, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই আন্দোলনের নেপথ্য ইতিহাস ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন রাশেদ।

রাশেদের বিবরণ অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৮ জুলাই ছিল জুলাই গণহত্যার তৃতীয় দিন, যেদিন অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। ওই দিন সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আহনাফ সাঈদ খান তাকে ফোন করেন। আহনাফ তাকে বলেন, বিএনপি ও সব রাজনৈতিক দলকে মাঠে নামতে বলেন। এবার সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে যেতে হবে। এত হত্যার পরে আর কোটা সংস্কার আন্দোলন হতে পারে না।

এর আগের ঘটনা উল্লেখ করে এই নেতা জানান, আন্দোলন চলাকালেই তিনি আসিফ মাহমুদকে জানিয়ে রেখেছিলেন যে, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন ও অংশগ্রহণ রয়েছে। যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমর্থন প্রয়োজন হলে তিনি তা ব্যবস্থা করতে পারবেন। তখন আসিফ মাহমুদ তাকে জানিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতির কারণে তিনি কখন কোথায় থাকবেন তা নিশ্চিত নয়, তাই আহনাফ তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন। সেই সূত্র ধরেই আহনাফ ১৮ জুলাই রাশেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

রাশেদ যখন আহনাফকে জিজ্ঞেস করেন যে এটি কি শুধু তার ব্যক্তিগত মতামত নাকি আসিফ মাহমুদসহ সবার সিদ্ধান্ত, তখন আহনাফ নিশ্চিত করেন যে এটি তাদের সবারই যৌথ সিদ্ধান্ত। আহনাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই হত্যার একমাত্র প্রতিশোধ শেখ হাসিনার পতন। আপনি আস্থা রাখেন, ১ দফার ঘোষণা আসবেই।

এই কথোপকথনের পর রাশেদ বিষয়টি তৎকালীন বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে জানান। তিনি সালাউদ্দিন আহমেদকে বলেন যে, ছাত্ররা তো বিএনপি ও সব দলকে মাঠে নেমে যেতে বলে, তারা ১ দফার ঘোষণা দেবে। জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদও সহমত পোষণ করে বলেন, দেখো এত হত্যার পরে তো কোটা সংস্কার আন্দোলন আর করা যায় না। তারা সত্যিই ১ দফার ঘোষণা দিলে, এবার বিএনপি শেষ লড়াইটা লড়বে।

এরপর সালাউদ্দিন আহমেদ বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে সরকার পতনের নেপথ্যের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। রাশেদ দাবি করেন, এটিই জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয় ছাত্র নেতাদের আহ্বানে বিএনপিই করেছে এবং ইতিহাস স্বীকার করতে কষ্ট হলেও এটিই সত্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor