ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক মোংলায় গাঁজা উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি: ১২০ কেজি না ৭৫ কেজি? সিলেট বিভাগজুড়ে নিখোঁজের হিড়িক, তিন মাসে উধাও অন্তত ৪৭ জন মধ্যনগরে সরকারি ভিটির লীজমানি আদায়ে দিনব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বরিশালে শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত দক্ষিণ এশিয়ায় কারাগারের ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দী হারে শীর্ষে বাংলাদেশ মুন্সীগঞ্জে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, জরিমানা রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক নয়, এটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি: ঢাকা যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে দেশসেরা শিবগঞ্জের ইউএনও মাজহারুল ইসলাম

আবরার হত্যা মামলা: আপিল নিষ্পত্তিতে আরও ৫ বছর লাগার শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১৬ই মার্চ হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। তবে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি এখনও সম্পন্ন হয়নি। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া ও কার্যতালিকার জট বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে আরও ৪ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলার বর্তমান ধারাবাহিকতা অনুযায়ী শুনানি শুরু হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আইনজীবী দুলু জানান, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তার হাতের লিগামেন্ট ছেঁড়া ছিল, যা দিয়ে মানুষ হত্যা করা অসম্ভব। এছাড়া মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ঘটনার সময় রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন এবং সিআইডির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে পাওয়া ২০ জনের তালিকায়ও তার নাম ছিল না।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বিচারিক আদালতের রায়ের পর সংক্ষুব্ধ আসামিদের পক্ষ থেকেই আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব থাকে। বিচারক সংকট ও বিচারাধীন মামলার জটের কারণে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব না হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তৎপর রয়েছে। তিনি আইনের শাশ্বত নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, হাজার অপরাধী শাস্তি পেলেও একজন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর নির্যাতনে আবরার ফাহাদ নিহত হন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানান, ভিন্নমত পোষণ অপরাধ নয় এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বা ‘গেস্টরুম টর্চারের’ সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ দেন যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসামিদের কেউই আবরারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ২০ আসামি হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং মুজতবা রাফিদ। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা এবং ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় কাশিমপুর কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি ৮ই সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া মামলার রায়ের সময় মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং মুজতবা রাফিদ পলাতক ছিলেন।

গত বছরের ১৬ মার্চ হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে এ আদেশ দেন। তবে রায়ের পর উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে এখনও মামলাটির শুনানি সম্পন্ন হয়নি। আপিল নিষ্পত্তিতে আরও ৪-৫ বছর সময় লাগার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন সাজা না পান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়—সে ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

আবরার হত্যা মামলা: আপিল নিষ্পত্তিতে আরও ৫ বছর লাগার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১৬ই মার্চ হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। তবে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি এখনও সম্পন্ন হয়নি। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া ও কার্যতালিকার জট বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে আরও ৪ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলার বর্তমান ধারাবাহিকতা অনুযায়ী শুনানি শুরু হতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মক্কেলরা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আইনজীবী দুলু জানান, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তার হাতের লিগামেন্ট ছেঁড়া ছিল, যা দিয়ে মানুষ হত্যা করা অসম্ভব। এছাড়া মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ঘটনার সময় রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন এবং সিআইডির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে পাওয়া ২০ জনের তালিকায়ও তার নাম ছিল না।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বিচারিক আদালতের রায়ের পর সংক্ষুব্ধ আসামিদের পক্ষ থেকেই আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব থাকে। বিচারক সংকট ও বিচারাধীন মামলার জটের কারণে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব না হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তৎপর রয়েছে। তিনি আইনের শাশ্বত নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, হাজার অপরাধী শাস্তি পেলেও একজন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর নির্যাতনে আবরার ফাহাদ নিহত হন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানান, ভিন্নমত পোষণ অপরাধ নয় এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বা ‘গেস্টরুম টর্চারের’ সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ দেন যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসামিদের কেউই আবরারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ২০ আসামি হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং মুজতবা রাফিদ। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা এবং ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় কাশিমপুর কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি ৮ই সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া মামলার রায়ের সময় মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং মুজতবা রাফিদ পলাতক ছিলেন।

গত বছরের ১৬ মার্চ হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে এ আদেশ দেন। তবে রায়ের পর উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে এখনও মামলাটির শুনানি সম্পন্ন হয়নি। আপিল নিষ্পত্তিতে আরও ৪-৫ বছর সময় লাগার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন সাজা না পান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়—সে ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin