ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যশোরে কিশোরীর মৃত্যু: আত্মগোপনে ইসকনের অভিযুক্তরা, এখনো মেলেনি হদিস ৪৯তম বিশেষ বিসিএস: বাদ পড়া আরও ৪০ জনকে নিয়োগ দিল সরকার হোমার থেকে এআই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গল্পকারের ভবিষ্যৎ বিচারহীন পুনর্মিলন কেবল সংঘাতের সাময়িক বিরতি: বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন রংপুরে ২১ কেজি ওজনের কালী মূর্তিসহ রজব আলী গ্রেপ্তার স্লো ওভার-রেটের দায়ে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দলকেই জরিমানা শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তি কাটেনি, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপপ্রচার দেশে এখনো একটি দল ইসলামী শাসন চায় না: এটিএম আজহারুল ইসলাম ব্যালন ডি’অর নিয়ে থমাস মুলারের পছন্দে চমক, বাদ পড়লেন কেইন ও ইয়ামাল সালমান শাহ হত্যা মামলা: ফের নামঞ্জুর খলনায়ক ডনের জামিন

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা গভীরভাবে জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের আদর্শ রোল মডেল হিসেবে দেখে। তাই শিক্ষকরা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই পাবে এবং মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, আনন্দময় শিক্ষা সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও দেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক ও শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না পড়ে এবং ঝরে পড়লেও তারা যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ২১ হাজার প্রতিষ্ঠানে তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। শহর ও গ্রামের শিক্ষার পার্থক্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না; যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দিতে হবে। এছাড়া চলতি বছর থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার

আপডেট সময় : ১২:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির সঙ্গে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা গভীরভাবে জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হলো—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের আদর্শ রোল মডেল হিসেবে দেখে। তাই শিক্ষকরা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই পাবে এবং মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, আনন্দময় শিক্ষা সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও দেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক ও শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না পড়ে এবং ঝরে পড়লেও তারা যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ২১ হাজার প্রতিষ্ঠানে তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। শহর ও গ্রামের শিক্ষার পার্থক্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না; যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দিতে হবে। এছাড়া চলতি বছর থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din