শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তি কাটেনি, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপপ্রচার
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে বিলম্ব, ইমিগ্রেশনে হয়রানি এবং ট্রলি সংকটসহ নানা যাত্রী ভোগান্তির চিত্র এখনো বদলায়নি। সম্প্রতি তিন তরুণীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়া এবং বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট এক ঘটনায় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আকতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার পর এই ভোগান্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে প্রবাসীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি—পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে কেউ কেউ পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিমানবন্ধরে ট্রলি সংকটের বেশ কয়েকটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যার সত্যতা মিলেছে সরজমিন অনুসন্ধানেও। কর্তৃপক্ষ চার হাজার ট্রলি থাকার দাবি করলেও একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট নামলে তীব্র সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক মাস আগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেও ট্রলি আনা হয়েছিল। গত ১লা অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ফ্লাইটে জামায়াত নেতা আকতারুজ্জামান এবং জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধিসহ অন্য যাত্রীরা ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে এলে আকতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং পরিচালককে হুমকি দেন। এ সময় প্রটোকল সহকারীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় এক security কর্মকর্তা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং কর্মকর্তাকে হুমকির অভিযোগে জামায়াতের সহযোগী সদস্য ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আকতারুজ্জামানকে পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহফুজা হান্নানের মেয়ে এবং সিলেটের চিকিৎসক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডা. ওরাকাতুল জান্নাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন, যা ব্যাপক ভাইরাল হয়। উল্লেখ্য, ডা. ওরাকাতুলের বাবাও একজন জামায়াত নেতা এবং সিলেটে দলটির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। আকতারুজ্জামান ও একই ফ্লাইটে থাকা জামায়াতের চারজন সাবেক এমপি পরবর্তীতে এ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
সাধারণ যাত্রীরাও বিমানবন্দরে তাদের ভোগান্তির কথা নিয়মিত তুলে ধরছেন। তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরা গণমাধ্যমকর্মী আবুল কালাম ফেসবুকে লেখেন, আমেরিকা থেকে ফেরার পর বিমানবন্দরে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে লাগেজ পেয়েছেন, যার একটি খোলা এবং অন্যটি ভাঙা ছিল। তার দুই দিন আগে সৌদি আরব থেকে ফেরা মফিজুল আলম নামে আরেক যাত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ যাত্রা শেষে দেশে নেমে লাগেজ পেতে তাকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং পরে ট্রলি পেতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দরের এই অব্যবস্থাপনাকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, কিছু দুষ্কৃতকারী বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পুরনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দায়িত্বে কোনো অবহেলা করা হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারীদের পুরস্বৃত করা হবে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত সক্ষমতা দিয়ে বিশালসংখ্যক যাত্রীকে সেবা দিতে গিয়ে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তারাও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি করেন, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

























