ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৪৯ জনের বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় বেরোবির ৩ শিক্ষক ও ১ শিক্ষার্থী বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে স্থায়ী কমিটির সুপারিশ রংপুরে শিক্ষকসহ চার খুন: গ্রেপ্তার ২ আসামির ডিএনএ মিলেছে বিদেশযাত্রীদের জন্য ডলার কেনার সীমা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে রেললাইনে গাছ, স্থানীয়দের চেষ্টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে রেললাইনে গাছ, এক ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: নওগাঁর এসপি কোটালীপাড়ায় নজরুলচর্চায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান বিদ্যুৎ খাতে ৩৩০ কোটি ডলার ঋণের উদ্যোগে নেজামে ইসলাম পার্টির গভীর উদ্বেগ

দিনাজপুরে গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবকেরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভেড়ার চেয়ে আকারে বড় এবং মাংসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ‘গাড়ল’ নামে পরিচিত এই প্রাণীটি এখন সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দিনাজপুরের অনেক বেকার যুবক এই গাড়ল পালন করে নিজেদের ভাগ্য বদলে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ এবং বাজারে এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে গাড়ল পালনের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

দিনাজপুর সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলাম ২০১৮ সালের শেষের দিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পরামর্শে মাত্র ৪৫টি গাড়লের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। সে সময় তিনি আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মূলধন বিনিয়োগ করেছিলেন। দুই বছরের মাথায় তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ২৩০টি গাড়ল রয়েছে এবং তার বার্ষিক আয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। তার এই খামারে দুই জন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। রেজাউল ইসলাম ভবিষ্যতে দুম্বা পালনের পরিকল্পনা করছেন।

গাড়ল পালনের সুবিধা সম্পর্কে খামারিরা জানান, এই প্রাণীগুলো মাচার ওপর থাকতে পছন্দ করে, যা তাদের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে দূরে রাখে এবং রোগবালাই কমায়। মাচার ওপর থাকায় গাড়লের বিষ্ঠা নিচে পড়ে যায়, যা জৈব সার হিসেবে বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া বাড়ির পাশে সরকারি টিকলির চারণভূমিতে ছেড়ে দিলে তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, ফলে বাড়তি কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। বছরে দুইবার প্রতিটি গাড়ল ২ থেকে ৩টি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে।

গাড়লের মাংস গন্ধমুক্ত, সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং প্রতি কেজি মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলায় নাজমুল ইসলামের মতো আরও ৭-৮ জন খামারি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার গাড়ল পালন করছেন। খামারিদের মতে, গৃহপালিত অন্য প্রাণীর তুলনায় গাড়লের রোগবালাই কম হয় এবং এগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় বেশ কয়েকটি গাড়ল খামার গড়ে উঠেছে এবং স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অনেকেই এতে আগ্রহী হচ্ছেন। খামারিরা মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে আরও অনেক খামার গড়ে উঠবে, যা মাংসের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবকেরা

আপডেট সময় : ০২:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ভেড়ার চেয়ে আকারে বড় এবং মাংসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ‘গাড়ল’ নামে পরিচিত এই প্রাণীটি এখন সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দিনাজপুরের অনেক বেকার যুবক এই গাড়ল পালন করে নিজেদের ভাগ্য বদলে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ এবং বাজারে এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় খামারিদের মধ্যে গাড়ল পালনের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

দিনাজপুর সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলাম ২০১৮ সালের শেষের দিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পরামর্শে মাত্র ৪৫টি গাড়লের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। সে সময় তিনি আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মূলধন বিনিয়োগ করেছিলেন। দুই বছরের মাথায় তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ২৩০টি গাড়ল রয়েছে এবং তার বার্ষিক আয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। তার এই খামারে দুই জন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। রেজাউল ইসলাম ভবিষ্যতে দুম্বা পালনের পরিকল্পনা করছেন।

গাড়ল পালনের সুবিধা সম্পর্কে খামারিরা জানান, এই প্রাণীগুলো মাচার ওপর থাকতে পছন্দ করে, যা তাদের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থেকে দূরে রাখে এবং রোগবালাই কমায়। মাচার ওপর থাকায় গাড়লের বিষ্ঠা নিচে পড়ে যায়, যা জৈব সার হিসেবে বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া বাড়ির পাশে সরকারি টিকলির চারণভূমিতে ছেড়ে দিলে তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, ফলে বাড়তি কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। বছরে দুইবার প্রতিটি গাড়ল ২ থেকে ৩টি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে।

গাড়লের মাংস গন্ধমুক্ত, সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং প্রতি কেজি মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। দিনাজপুর সদর উপজেলায় নাজমুল ইসলামের মতো আরও ৭-৮ জন খামারি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার গাড়ল পালন করছেন। খামারিদের মতে, গৃহপালিত অন্য প্রাণীর তুলনায় গাড়লের রোগবালাই কম হয় এবং এগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় বেশ কয়েকটি গাড়ল খামার গড়ে উঠেছে এবং স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অনেকেই এতে আগ্রহী হচ্ছেন। খামারিরা মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে আরও অনেক খামার গড়ে উঠবে, যা মাংসের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh