গ্যাস সংকটে হাহাকার: চুলা জ্বলছে না ঘরে, পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে এক চরম ভোগান্তিময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের দিনের একটি বড় অংশ কাটছে ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না মেলায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক রোজগার। গ্যাস সরবরাহে স্বল্পচাপের কারণে অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকেরা। এই সংকটের প্রভাব কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ নেই, বাসাবাড়িতেও রান্নার চুলা জ্বলছে না। ফলে সিলিন্ডার গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা হোটেলের কেনা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যও।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, কালশী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল জানান, গ্যাস সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। গভীর রাতে কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় সরবরাহ একেবারেই থাকে না। দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পেয়েছেন, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আবারও গ্যাসের জন্য তাকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ডেমরা এলাকায়। সেখানে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়ার জন্য চালকদের ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে সময়মতো যাত্রী পরিবহন করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন চালকেরা। রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ রেন্ট-এ-কার চালক মো. বশির হাওলাদার জানান, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় গাড়িতে যাত্রী বসিয়ে গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে দূরপাল্লার যাত্রী নেওয়া বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকেরাও গ্যাস বিক্রি কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সবুজবাগ, মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ সর্বনিম্নে নেমে আসায় ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্ত ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক কবির হোসেন জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি গ্যাসের সিরিয়াল পাননি। গ্যাস না পেলেও দিনশেষে গাড়ির মালিককে নির্ধারিত ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতেই হবে, যা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উত্তরা এলাকায় অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের অভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ জানান, পরিবহনের একটি বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও চাপ কম থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না। সিএনজিচালক জসিম জানান, রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি গ্যাস পাননি। এই অবস্থায় পরিবারের খরচ ও সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়া নিয়ে তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছেন।
এদিকে বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, গত তিন দিন ধরে গ্যাস না থাকায় তারা হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্কুলশিক্ষিকা আমেনা বেগম জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের স্কুলের ডে-কেয়ারে শিশুদের জন্য রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে এলপিজি গ্যাসও সহজে মিলছে না, আর এই সুযোগে বাজারে ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


























