ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন লালমনিরহাটে এবি পার্টি নেতার বাড়ি ভাঙচুর, ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে পতিত দোসররা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী ভাঙ্গুড়ায় আবাদি জমি নিয়ে বিরোধে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি চান না ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপে কোণঠাসা ইরান: কোন পথে হাঁটবে তেহরান? ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ২২ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিশেষ উপহার পেলেন মেসি ও স্ত্রী সমীক্ষা ছাড়াই ৩৫ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, লাখ কোটি টাকার ঋণের শঙ্কা বাজারমূল্যে বড় ধস ভিনিসিয়ুসের, তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে

মুরাদনগরে ডাক্তারকে ‘স্যার-ম্যাডাম’ ডাকতে হবে না, নির্দেশনা প্রত্যাহার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের দরজায় টাঙানো এই হাতে লেখা নির্দেশনাটি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষ তা সরিয়ে ফেলে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি শুক্রবার বিকেলে তার নজরে আসার পর তিনি নিজেই স্টাফদের মাধ্যমে নির্দেশনাটি ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি এই নির্দেশনাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলেই সম্বোধন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একজন চিকিৎসকের মূল দায়িত্ব রোগীদের সেবা দেওয়া এবং তাদের সবচেয়ে বড় গুণ হওয়া উচিত মানবিক হওয়া।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে এই নির্দেশনাটি টাঙানো হয়েছিল, যা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা-সমালোচনা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের সহজ-সরল মানুষ যারা চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন, তারা এই নির্দেশনার কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছিলেন। নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, গ্রামের মানুষ হিসেবে তারা সম্মান জানিয়েই চিকিৎসকদের ভাই বা আপা বলে ডাকেন, কিন্তু এতে অনেক সময় চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং বিস্তারিত খোঁজ নেবেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং তিনি নিজে মানুষকে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে সম্বোধন নিয়ে কোনো জটিলতা থাকার কথা নেই। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ঠিক কোন চিকিৎসকের কারণে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মুরাদনগরে ডাক্তারকে ‘স্যার-ম্যাডাম’ ডাকতে হবে না, নির্দেশনা প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের দরজায় টাঙানো এই হাতে লেখা নির্দেশনাটি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষ তা সরিয়ে ফেলে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি শুক্রবার বিকেলে তার নজরে আসার পর তিনি নিজেই স্টাফদের মাধ্যমে নির্দেশনাটি ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি এই নির্দেশনাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলেই সম্বোধন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একজন চিকিৎসকের মূল দায়িত্ব রোগীদের সেবা দেওয়া এবং তাদের সবচেয়ে বড় গুণ হওয়া উচিত মানবিক হওয়া।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে এই নির্দেশনাটি টাঙানো হয়েছিল, যা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা-সমালোচনা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের সহজ-সরল মানুষ যারা চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন, তারা এই নির্দেশনার কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছিলেন। নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, গ্রামের মানুষ হিসেবে তারা সম্মান জানিয়েই চিকিৎসকদের ভাই বা আপা বলে ডাকেন, কিন্তু এতে অনেক সময় চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং বিস্তারিত খোঁজ নেবেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং তিনি নিজে মানুষকে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে সম্বোধন নিয়ে কোনো জটিলতা থাকার কথা নেই। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ঠিক কোন চিকিৎসকের কারণে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo