কুড়িগ্রামে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. মফিজুল হক নামের এক ছাত্রদল নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা ছাত্রদল। অভিযুক্ত মফিজুল হক রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৭ অক্টোবর (বুধবার) রাজীবপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মফিজুল হককে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সশরীরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সামনে জবাব পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকেও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদল।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর (রবিবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটাং পাড়া গ্রামের মো. ওমর আলীর গোয়ালঘরে চুরির উদ্দেশ্যে মফিজুলসহ সংঘবদ্ধ একটি দল প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে ওমর আলী বাইরে বেরিয়ে মফিজুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় ওমর আলীর হাতের আঙুল মুচড়ে দিয়ে মফিজুল পালিয়ে যান। এর পরদিন ৫ অক্টোবর (সোমবার) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় বাজারে বৃদ্ধ ওমর আলীকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ এবং কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে মফিজুলের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ওমর আলীর ছেলে মো. দুলাল হোসেন (৩৮) বাদী হয়ে মফিজুলসহ চারজনকে আসামি করে ঢুষমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দুলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মফিজুল চিহ্নিত মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সে গভীর রাতে আমাদের গোয়ালঘরে চুরির চেষ্টা চালায়। বাধা দেওয়ায় আমার বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতন করে পালিয়ে যায় এবং পরে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে চুরির এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























