দাম্পত্য জীবন সুখময় করার উপায় ও ইসলামি নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইসলামে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যা পৃথিবীর সব নবী-রাসুল পালন করেছেন। বিয়ের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং বংশধারা উত্তম উপায়ে পৃথিবীতে আসার সুযোগ পায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা প্রশান্তি লাভ করতে পারে এবং একে অপরের মধ্যে ভালোবাসা, দয়া ও রহমত স্থাপন করেছেন। এই মানসিক প্রশান্তি ও ভালোবাসা অর্জনের জন্য দাম্পত্য জীবনে যত্নবান হওয়া এবং কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বর্তমান সময়ে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের প্রবণতা বাড়ছে, যা সংসার ভাঙনের অন্যতম কারণ। দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি বজায় রাখতে হলে স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। একই ছাদের নিচে থেকেও মোবাইল বা অফিসের কাজে ব্যস্ত থেকে একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা দাম্পত্য জীবনে বিরক্তি ও অশান্তি ডেকে আনে। তাই দূরত্ব কমিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলা এবং সময় কাটানো অপরিহার্য।
সাজসজ্জা ও পরিপাটি থাকার বিষয়েও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় কর্মব্যস্ততায় নারীরা ঘরের ভেতর সাজগোজের প্রতি অনীহা দেখান, অথচ বাইরে যাওয়ার সময় বাড়তি গুরুত্ব দেন। স্বামীর পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রেখে ঘরের পরিবেশ ও নিজের সাজসজ্জায় পরিপাটি থাকা দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিবাহিত জীবনে দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাবোধের কোনো বিকল্প নেই। একজন আদর্শ স্ত্রী হিসেবে স্বামীর অনুগত থাকা এবং তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা জরুরি। একইভাবে একজন আদর্শ স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর ভরণপোষণসহ সাধ্যের মধ্যে যাবতীয় প্রয়োজন ও বৈধ আবদার পূরণ করা। বর্তমান সময়ে অনেকে একে অপরের সেবাযত্নকে ছোট করে দেখার প্রবণতা দেখালেও, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্ব পালনই সুখের চাবিকাঠি।
বিয়ে করার ক্ষেত্রে শুধু অর্থসম্পদ বা বংশমর্যাদাকে প্রাধান্য না দিয়ে ধার্মিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, নারীদের সাধারণত চারটি গুণ দেখে বিয়ে করা হয়— সম্পদ, বংশ গৌরব, সৌন্দর্য এবং ধার্মিকতা। তবে ধার্মিক নারীকে বেছে নেওয়াই শ্রেষ্ঠ উপায়।
স্বামীর অনুগত হওয়া একজন নারীর জন্য অত্যন্ত আবশ্যক। রাসুল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়া এবং আনুগত্য করা স্ত্রীর দায়িত্ব। এছাড়া পরকীয়া বা পরপুরুষ ও পরনারীর সঙ্গে অবাধ মেলামেশা দাম্পত্য জীবনে বিষাদ ও অশান্তি বয়ে আনে। কর্মব্যস্ততার অজুহাতে একে অপরের থেকে দূরে না থেকে, বৈধ সম্পর্ককে উপভোগ্য করার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও সুখময় সংসার গড়ে তোলা সম্ভব।
























