ফেসবুক পরিচয়ে ডেকে নিয়ে সাংবাদিককে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকে ‘মামুন শেখ’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে অপহরণের শিকার হয়েছেন সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলু। ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে জুরাইন (পোস্তগোলা) এলাকায় ডেকে নিয়ে তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিচয়ের মাধ্যমে। মামুন নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক বাবলুকে বিটকয়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখান।
ঘটনার দিন মামুন জুরাইনে আত্মীয়ের বাসায় থাকার কথা বলে বাবলুকে সেখানে দেখা করার অনুরোধ করেন। বাবলু সেখানে পৌঁছালে মামুন ও তার বন্ধু অনিক তাকে একটি গাড়িতে বসতে বলেন। গাড়িতে ওঠার পরপরই পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাকে ভেতরে ঢুকিয়ে নেওয়া হয় এবং পেছনের সিটে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন যুবক দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। বাবলুর চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়।
প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা গাড়ি চলার পর তাকে একটি নির্জন গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণকারীরা তাকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য গালিগালাজ করে এবং তাকে টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা দাবি করে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ সময় তারা বাবলুর মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক কার্ডের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়। রাত ৯টার দিকে বাবলুর স্ত্রী ফোন করলে অপহরণকারীরা তাকে স্বাভাবিক কথা বলতে বাধ্য করে। বাবলুর স্ত্রী পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তার স্বজনদের জানালে তারা পল্টন থানায় যোগাযোগ করেন।
অপহরণকারীরা বাবলুর ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে গোপালগঞ্জের একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে এবং তার মোবাইল ব্যবহার করে বিকাশের মাধ্যমেও অর্থ হাতিয়ে নেয়। ঘটনার শেষ পর্যায়ে ভোরবেলার দিকে বাবলু কৌশলে অপহরণকারীদের নজর এড়িয়ে পালিয়ে প্রধান সড়কে উঠে আসেন। সেখান থেকে একটি পিকআপ ভ্যান থামিয়ে সাহায্য চেয়ে তিনি বাগেরহাটের মোল্লাহাট এলাকায় পৌঁছান এবং বাস কাউন্টার থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলু মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে ২৮২/২৬ নং মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম (পিআরএফ), রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরাম (আরআরএফ) ও কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।


























