ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩০ বছরে বিশ্ব ডিম দিবস: পুষ্টির জোগান ও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় ৪ নেতার ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ গজারিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধের প্রতিবাদে ক্রীড়াপ্রেমীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অক্টোবরের বৃষ্টিতে যশোরে স্বস্তি-ভোগান্তি, কৃষকদের শঙ্কা মব–সংস্কৃতি: জনরোষের প্রকাশ নাকি পরিকল্পিত অরাজকতা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম তিন জোড়া কবুতরে শুরু, এখন সংসারের হাল ধরেছেন স্বপ্না রানী চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে এক মাসের দায়িত্ব চাইলেন মাহবুব কবীর পিরোজপুরে ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা সিলগালা, মালিকের কারাদণ্ড

মাটির ঘরে তৈলার দ্বীপ ডাকঘর, বাক্স খুললেও মেলে না চিঠি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলার দ্বীপ ডাকঘরটি বছরের পর বছর ধরে একটি পুরোনো মাটির ঘরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিদিন সকাল ১১টায় নিয়ম মেনে দেয়ালের চিঠির বাক্সটি খোলা হলেও, সেখানে পাঠানোর মতো কোনো চিঠি পাওয়া যায় না। মোবাইল ফোনের ব্যাপক প্রসারের কারণে ব্যক্তিগত চিঠিপত্র আদান-প্রদান কমে গেলেও এই ডাকঘরের গুরুত্ব এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

বর্তমানে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরে পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন মো. আমির হোসেন। তাঁর সঙ্গে পিয়ন হিসেবে মিজানুর রহমান ও রানার হিসেবে আলী আকবর দায়িত্ব পালন করছেন। ডাকঘরটিতে এখন মূলত বাইরে চিঠি পাঠানোর চেয়ে বাইরে থেকে আসা চিঠিপত্র বিতরণের কাজই বেশি হয়। পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে এই ডাকঘরে ৩২৪টি চিঠি ও নথিপত্র এসেছে, যার মধ্যে ৩০৩টি ছিল রেজিস্ট্রি করা চিঠি। এছাড়া ১ নভেম্বর একদিনেই চারটি চিঠি বিতরণ করা হয়েছে। পিয়ন মিজানুর রহমান এসব চিঠি তৈলার দ্বীপ, বারখাইন ও শোলকাটা এলাকায় পৌঁছে দেন। সপ্তাহের পাঁচ দিন প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকায় চিঠি বিলি করা হয়। এখন সাধারণ চিঠির চেয়ে আদালতের নোটিশ, তালাকনামা ও সরকারি চাকরির কাগজপত্রই বেশি আসে।

মাটির তৈরি এই ডাকঘর ভবনটির একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরটি একসময় সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের কাছারিঘর ছিল। সেখানে আগে শিশুদের মক্তব পরিচালনা করে আরবি শেখানো হতো, যা এখন পাশের মসজিদে স্থানান্তরিত হয়েছে। কাছারিঘরের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি এখন তালাবদ্ধ এবং বাকি একটি কক্ষে চলছে ডাকঘরের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ। ডাকঘরের ভেতরে একটি টেবিলের দুই প্রান্তে বসে কাজ করেন সংশ্লিষ্টরা। টেবিলে রয়েছে চিঠি মাপার পুরোনো পাল্লা, লোহার সিল, আঠা ও গালা।

২০১৭ সালে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরসহ দেশের ৫ হাজার ৫০৬টি ডাকঘরকে পোস্ট ই-সেন্টার বা ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে নিজস্ব পাকা ভবন না থাকায় এই ডাকঘরের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি ডিভাইস ও সরঞ্জামগুলো নিরাপত্তার অভাবে পটিয়া ডাকঘরে রেখে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলমের মতে, প্রযুক্তির কারণে চিঠি আদান-প্রদান কমলেও ডাকঘরের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। এটি যদি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তর করা যেত, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ছবি প্রিন্ট, ই-মেইল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ বিতরণ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক সেবাগুলো সহজেই পেতেন।

এ বিষয়ে ডাক বিভাগের পটিয়া অঞ্চলের পরিদর্শক রাজীব দাশ জানান, নিজস্ব জায়গা ও পাকা ভবন না থাকার কারণে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরের কাজ মাটির ঘরেই চালাতে হচ্ছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে সেখানে রাখা সম্ভব হয়নি, যার কারণে সেগুলো পটিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মাটির ঘরে তৈলার দ্বীপ ডাকঘর, বাক্স খুললেও মেলে না চিঠি

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলার দ্বীপ ডাকঘরটি বছরের পর বছর ধরে একটি পুরোনো মাটির ঘরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিদিন সকাল ১১টায় নিয়ম মেনে দেয়ালের চিঠির বাক্সটি খোলা হলেও, সেখানে পাঠানোর মতো কোনো চিঠি পাওয়া যায় না। মোবাইল ফোনের ব্যাপক প্রসারের কারণে ব্যক্তিগত চিঠিপত্র আদান-প্রদান কমে গেলেও এই ডাকঘরের গুরুত্ব এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

বর্তমানে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরে পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন মো. আমির হোসেন। তাঁর সঙ্গে পিয়ন হিসেবে মিজানুর রহমান ও রানার হিসেবে আলী আকবর দায়িত্ব পালন করছেন। ডাকঘরটিতে এখন মূলত বাইরে চিঠি পাঠানোর চেয়ে বাইরে থেকে আসা চিঠিপত্র বিতরণের কাজই বেশি হয়। পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে এই ডাকঘরে ৩২৪টি চিঠি ও নথিপত্র এসেছে, যার মধ্যে ৩০৩টি ছিল রেজিস্ট্রি করা চিঠি। এছাড়া ১ নভেম্বর একদিনেই চারটি চিঠি বিতরণ করা হয়েছে। পিয়ন মিজানুর রহমান এসব চিঠি তৈলার দ্বীপ, বারখাইন ও শোলকাটা এলাকায় পৌঁছে দেন। সপ্তাহের পাঁচ দিন প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকায় চিঠি বিলি করা হয়। এখন সাধারণ চিঠির চেয়ে আদালতের নোটিশ, তালাকনামা ও সরকারি চাকরির কাগজপত্রই বেশি আসে।

মাটির তৈরি এই ডাকঘর ভবনটির একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরটি একসময় সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের কাছারিঘর ছিল। সেখানে আগে শিশুদের মক্তব পরিচালনা করে আরবি শেখানো হতো, যা এখন পাশের মসজিদে স্থানান্তরিত হয়েছে। কাছারিঘরের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি এখন তালাবদ্ধ এবং বাকি একটি কক্ষে চলছে ডাকঘরের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ। ডাকঘরের ভেতরে একটি টেবিলের দুই প্রান্তে বসে কাজ করেন সংশ্লিষ্টরা। টেবিলে রয়েছে চিঠি মাপার পুরোনো পাল্লা, লোহার সিল, আঠা ও গালা।

২০১৭ সালে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরসহ দেশের ৫ হাজার ৫০৬টি ডাকঘরকে পোস্ট ই-সেন্টার বা ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে নিজস্ব পাকা ভবন না থাকায় এই ডাকঘরের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি ডিভাইস ও সরঞ্জামগুলো নিরাপত্তার অভাবে পটিয়া ডাকঘরে রেখে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলমের মতে, প্রযুক্তির কারণে চিঠি আদান-প্রদান কমলেও ডাকঘরের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। এটি যদি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তর করা যেত, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ছবি প্রিন্ট, ই-মেইল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ বিতরণ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক সেবাগুলো সহজেই পেতেন।

এ বিষয়ে ডাক বিভাগের পটিয়া অঞ্চলের পরিদর্শক রাজীব দাশ জানান, নিজস্ব জায়গা ও পাকা ভবন না থাকার কারণে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরের কাজ মাটির ঘরেই চালাতে হচ্ছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে সেখানে রাখা সম্ভব হয়নি, যার কারণে সেগুলো পটিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo