ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অক্টোবরের বৃষ্টিতে যশোরে স্বস্তি-ভোগান্তি, কৃষকদের শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যশোরে অক্টোবরের শুরুতেই এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজেছে শহর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি এনে দিলেও, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য বয়ে এনেছে চরম ভোগান্তি। যশোর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এদিন যশোরে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি জমে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ছাতা ছাড়া বের হওয়া অনেকে বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়ে দোকান, মার্কেট বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে আশ্রয় নেন। আবার কেউ কেউ বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকেন। ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চালকদের সতর্ক হয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

দশম শ্রেণির ছাত্রী আবিদ রহমান কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টিতে আটকা পড়ে জানায়, “হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাড়ি ফিরতে সমস্যা হচ্ছে। সঙ্গে ছাতা ছিল না। রাস্তায় পানি জমে গেছে। বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় আছি।” ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিম রেজা অফিস থেকে ফেরার সময় একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় বৃষ্টির মধ্যে পড়েছি। কয়েক দিনের গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি লাগছে। তবে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অফিস শেষে যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের ভোগান্তি বেশি।”

খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষ এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন। দোকানিরা তাদের পণ্য বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। রিকশা ও ভ্যানচালকদের কেউ যাত্রী নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।

তবে, এই বৃষ্টিতে শহরবাসী কয়েক দিনের ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে স্বস্তি পেয়েছেন। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে এবং বাতাসে শীতলতা অনুভূত হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা যায়, যা স্বস্তির একটি চিত্র তুলে ধরে।

শহরের বাইরে বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু জমিতে পানি জমে গেছে। এ সময়ে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন আগাম সবজির বীজতলা ও নতুন চারা তৈরির কাজ চলছে। ফলে কৃষকরা বীজতলা ও নতুন রোপণ করা চারার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের সবজি চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় এখন ঝাল, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ইত্যাদির চারা লাগানো হচ্ছে। আমার এই সবের বীজতলা রয়েছে। এই বৃষ্টিতে যেসব বীজের চারা গজায়নি, সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া গত দুই-তিন দিন যারা চারা রোপণ করেছেন, তাদের চারাও নষ্ট হবে।” তিনি আরও জানান, “এই এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু হলেও আজকের বৃষ্টিতে অনেক জমি তলিয়ে গেছে। আমার কয়েকটি বীজতলা পানির নিচে। কৃষকের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল।”

অন্যদিকে, কৃষিতে এই বৃষ্টির ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস। তিনি বলেন, “বৃষ্টির কারণে ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজন কিছুটা কমেছে। অনেক উঁচু জমিতে পানির প্রয়োজন ছিল। যারা সম্পূরক সেচ দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এই বৃষ্টি উপকার করেছে। এতে ডিজেলসহ জ্বালানি খরচও সাশ্রয় হবে।”

আগাম সবজির ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে যারা সবজির বেড তৈরি করছেন, সেখানে পানি জমে থাকলে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে সকালে শ্রমিক দিয়ে পানি বের করে দিতে পারলে ক্ষতি খুব বেশি হবে না। ধানের জমিতে বৃষ্টির যে উপকার হবে, তার তুলনায় এই ক্ষতি নগণ্য হতে পারে।” মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টি হচ্ছে। কাল মাঠ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কোন এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যাবে। ঝড়ো বাতাস হলে কলাগাছ, পানের বরজ এবং পাকার পর্যায়ে থাকা ধান কিছুটা হেলে পড়তে পারে। এতে ধান নষ্ট না হলেও কাটার সময় শ্রমিক দিয়ে কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আমরা মাঠে লোক পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করব। কোনো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তথ্য পাওয়ার পরই বলা যাবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

অক্টোবরের বৃষ্টিতে যশোরে স্বস্তি-ভোগান্তি, কৃষকদের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে অক্টোবরের শুরুতেই এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজেছে শহর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি এনে দিলেও, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য বয়ে এনেছে চরম ভোগান্তি। যশোর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এদিন যশোরে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি জমে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ছাতা ছাড়া বের হওয়া অনেকে বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়ে দোকান, মার্কেট বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে আশ্রয় নেন। আবার কেউ কেউ বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকেন। ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চালকদের সতর্ক হয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

দশম শ্রেণির ছাত্রী আবিদ রহমান কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টিতে আটকা পড়ে জানায়, “হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাড়ি ফিরতে সমস্যা হচ্ছে। সঙ্গে ছাতা ছিল না। রাস্তায় পানি জমে গেছে। বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় আছি।” ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিম রেজা অফিস থেকে ফেরার সময় একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় বৃষ্টির মধ্যে পড়েছি। কয়েক দিনের গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি লাগছে। তবে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অফিস শেষে যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের ভোগান্তি বেশি।”

খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষ এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন। দোকানিরা তাদের পণ্য বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। রিকশা ও ভ্যানচালকদের কেউ যাত্রী নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।

তবে, এই বৃষ্টিতে শহরবাসী কয়েক দিনের ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে স্বস্তি পেয়েছেন। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে এবং বাতাসে শীতলতা অনুভূত হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা যায়, যা স্বস্তির একটি চিত্র তুলে ধরে।

শহরের বাইরে বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু জমিতে পানি জমে গেছে। এ সময়ে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন আগাম সবজির বীজতলা ও নতুন চারা তৈরির কাজ চলছে। ফলে কৃষকরা বীজতলা ও নতুন রোপণ করা চারার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের সবজি চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় এখন ঝাল, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ইত্যাদির চারা লাগানো হচ্ছে। আমার এই সবের বীজতলা রয়েছে। এই বৃষ্টিতে যেসব বীজের চারা গজায়নি, সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া গত দুই-তিন দিন যারা চারা রোপণ করেছেন, তাদের চারাও নষ্ট হবে।” তিনি আরও জানান, “এই এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু হলেও আজকের বৃষ্টিতে অনেক জমি তলিয়ে গেছে। আমার কয়েকটি বীজতলা পানির নিচে। কৃষকের বেশ ক্ষতি হয়ে গেল।”

অন্যদিকে, কৃষিতে এই বৃষ্টির ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস। তিনি বলেন, “বৃষ্টির কারণে ধানের জমিতে সেচের প্রয়োজন কিছুটা কমেছে। অনেক উঁচু জমিতে পানির প্রয়োজন ছিল। যারা সম্পূরক সেচ দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এই বৃষ্টি উপকার করেছে। এতে ডিজেলসহ জ্বালানি খরচও সাশ্রয় হবে।”

আগাম সবজির ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে যারা সবজির বেড তৈরি করছেন, সেখানে পানি জমে থাকলে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে সকালে শ্রমিক দিয়ে পানি বের করে দিতে পারলে ক্ষতি খুব বেশি হবে না। ধানের জমিতে বৃষ্টির যে উপকার হবে, তার তুলনায় এই ক্ষতি নগণ্য হতে পারে।” মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টি হচ্ছে। কাল মাঠ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কোন এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যাবে। ঝড়ো বাতাস হলে কলাগাছ, পানের বরজ এবং পাকার পর্যায়ে থাকা ধান কিছুটা হেলে পড়তে পারে। এতে ধান নষ্ট না হলেও কাটার সময় শ্রমিক দিয়ে কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আমরা মাঠে লোক পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করব। কোনো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তথ্য পাওয়ার পরই বলা যাবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin