কর্মসংস্থান বাড়লে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ এবং এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সতেরো বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে অর্থ পাচার করা হয়েছে। আওয়ামী সরকার ফ্যাসিস্ট উপাধি পাওয়ার কারণই ছিল দুর্নীতি। বিগত আমলে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং পূর্ববর্তী সরকারের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যেন বেকার না থাকে, সেজন্য কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া যেখানেই খালি জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, কারণ তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসনামলে সার্টিফিকেট-নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় স্নাতক পাশ করার পরও তরুণরা চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। দক্ষ জনশক্তির অভাবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এবং কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশাগ্রস্ত যুবকরা মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দেশের মোট মাদকাসক্তের ৮০ শতাংশই তরুণ ও যুবক বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বর্তমান সরকারের নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া ভাতা ও মাঠ উন্নয়নের মতো বহুমুখী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’। বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, রওনক জাহান ও মো. মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।


























