খুলনার কয়রায় ২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো মুসলিম শিক্ষক
- আপডেট সময় : ১০:২৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

খুলনার কয়রা উপজেলার অন্তত ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন হিন্দু শিক্ষকরা। স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, মুসলিম শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা, সূরা ও কেরাত শেখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং তাদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যে বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে হিন্দু শিক্ষকরা ইসলাম শিক্ষা পড়াচ্ছেন তার মধ্যে রয়েছে—গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা ডিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মহেশ্বরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালি সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভাগবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংটিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংরকি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়াঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হড্ডা পল্লী উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাতিয়ারডাঙ্গা পূর্বচক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় অভিভাবক মো. সাহেব আলী সানা জানান, শিক্ষকরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন বলেন, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক সময় নতুন শিক্ষকরা এখানে পদায়ন পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়নের কোনো সুযোগ নেই, যার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. নূরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে কোনো ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বিষয়টি অধিদপ্তরে জানানো আছে। আলাদাভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে তবেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
খুলনার কয়রা উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৪৩ জন।
এ বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য কর্মরত আছে ৫ জন শিক্ষক।





























