ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পেলেন অধ্যাপক আজম খান হাইফিউচারের এক্সক্লুসিভ পরিবেশক হলো স্মার্ট টেকনোলজিস মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে আরব বিশ্বে নতুন নজির গড়ল লেবানন রংপুরে লোডশেডিংয়ের কবলে জনজীবন: দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন নাটোরে ঝড়ে নৌকাডুবি: ছেলে নিহত, বাবা উদ্ধার বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের ২৬ বিজয়ীকে রবির বিশেষ পুরস্কার প্রদান জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশ, আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসিতে ফেল করেছেন বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা নজরুলের কথিত স্ত্রী বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর উদ্যোগ নিল সরকার

রংপুরে লোডশেডিংয়ের কবলে জনজীবন: দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রংপুর অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরের এক ঘণ্টাই থাকছে না।

বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রভাব পড়েছে জনজীবনের প্রতিটি স্তরে। চাকরিজীবীরা রাতের বেলা গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় সময়মতো অফিসে যেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে বিড়ম্বনায়, যার ফলে তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। কামারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী রাসেক আলী জানান, তার ব্যবসা পুরোপুরি বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গৃহিণীরা ইলেকট্রিক চুলা ও রাইস কুকার ব্যবহার করতে না পেরে রান্নার কাজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম জানান, সকালে সময়মতো রান্না করতে না পারায় তার সন্তান না খেয়ে স্কুলে যাচ্ছে এবং স্বামীও না খেয়ে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। শারমিন আক্তার নামে আরেক গৃহিণী জানান, গরমে শাশুড়িকে নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চিকিৎসক, নার্স এবং রোগীদের স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া রংপুরের ছোট ছোট কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মহানগর সভাপতি জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রংপুরের প্রতিটি স্তরের মানুষ নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে, নেসকো রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম মন্ডল জানান, চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং এটি সারা দেশব্যাপী সমস্যা। তিনি আরও বলেন, তারা দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুরে লোডশেডিংয়ের কবলে জনজীবন: দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

রংপুর অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরের এক ঘণ্টাই থাকছে না।

বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রভাব পড়েছে জনজীবনের প্রতিটি স্তরে। চাকরিজীবীরা রাতের বেলা গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় সময়মতো অফিসে যেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা পড়েছেন ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে বিড়ম্বনায়, যার ফলে তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। কামারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী রাসেক আলী জানান, তার ব্যবসা পুরোপুরি বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গৃহিণীরা ইলেকট্রিক চুলা ও রাইস কুকার ব্যবহার করতে না পেরে রান্নার কাজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম জানান, সকালে সময়মতো রান্না করতে না পারায় তার সন্তান না খেয়ে স্কুলে যাচ্ছে এবং স্বামীও না খেয়ে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। শারমিন আক্তার নামে আরেক গৃহিণী জানান, গরমে শাশুড়িকে নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চিকিৎসক, নার্স এবং রোগীদের স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া রংপুরের ছোট ছোট কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মহানগর সভাপতি জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রংপুরের প্রতিটি স্তরের মানুষ নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে, নেসকো রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম মন্ডল জানান, চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং এটি সারা দেশব্যাপী সমস্যা। তিনি আরও বলেন, তারা দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh