ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরসূচিতে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় কমল প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সালমানের প্র্যাঙ্কে শুটিং সেটে কেঁদে ফেলেছিলেন কারিশমা কাপুর সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার নির্দেশ, বাধা নেই ভ্রমণে সারাদেশে পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ইয়েমেনের আল-মাশিক প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ২ পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জবিতে গরু নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল মেসি পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ কারা সাতক্ষীরায় ফেসবুক লাইভ করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে আরব বিশ্বে নতুন নজির গড়ল লেবানন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আরব বিশ্বে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বাতিল করেছে লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির সংসদে ঐতিহাসিক এই আইনটি পাস হওয়ার ফলে এখন থেকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই আইনটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক আইনটির বিরোধিতা করেছে। সংসদে উপস্থিত বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই পদক্ষেপকে লেবাননের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে লেবানন প্রথম আরব দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের স্বীকৃতি পেল। প্রস্তাবটি প্রথম ২০২৫ সালের অক্টোবরে সংসদে উত্থাপন করেছিলেন আইনপ্রণেতা আবদুর রহমান আল-বিজরি, যা সাতজন সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়েছিল। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আইনটিতে কিছু সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পরবর্তী গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি দীর্ঘদিনের। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নিয়মিত এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। যদিও ২০০৪ সাল থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর একটি অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ ছিল, তবুও আইনি কাঠামোয় এই শাস্তির বিধান বহাল ছিল। নতুন আইনের ফলে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে সুযোগ পেত, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

লেবাননের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিশন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে, অপরাধের শাস্তি এমন হওয়া উচিত যা মানুষের মর্যাদাকে সম্মান করে এবং সংশোধনের সুযোগ দেয়। দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভক্তির মধ্যেও এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তনটি বিচারব্যবস্থায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশা করছেন, লেবাননের এই সিদ্ধান্ত অন্য আরব দেশগুলোকেও মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনায় উৎসাহিত করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে আরব বিশ্বে নতুন নজির গড়ল লেবানন

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

আরব বিশ্বে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বাতিল করেছে লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির সংসদে ঐতিহাসিক এই আইনটি পাস হওয়ার ফলে এখন থেকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই আইনটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক আইনটির বিরোধিতা করেছে। সংসদে উপস্থিত বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই পদক্ষেপকে লেবাননের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে লেবানন প্রথম আরব দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের স্বীকৃতি পেল। প্রস্তাবটি প্রথম ২০২৫ সালের অক্টোবরে সংসদে উত্থাপন করেছিলেন আইনপ্রণেতা আবদুর রহমান আল-বিজরি, যা সাতজন সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়েছিল। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আইনটিতে কিছু সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পরবর্তী গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি দীর্ঘদিনের। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নিয়মিত এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। যদিও ২০০৪ সাল থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর একটি অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ ছিল, তবুও আইনি কাঠামোয় এই শাস্তির বিধান বহাল ছিল। নতুন আইনের ফলে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে সুযোগ পেত, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

লেবাননের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিশন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে, অপরাধের শাস্তি এমন হওয়া উচিত যা মানুষের মর্যাদাকে সম্মান করে এবং সংশোধনের সুযোগ দেয়। দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভক্তির মধ্যেও এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তনটি বিচারব্যবস্থায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশা করছেন, লেবাননের এই সিদ্ধান্ত অন্য আরব দেশগুলোকেও মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনায় উৎসাহিত করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin