হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শর্তে বাড়ছে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৬:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি নতুন শর্ত আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে বড় পরিসরে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তেহরান ও ওমানের মধ্যকার আলোচনাও এখন জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গত শনিবার ছয়টি নতুন শর্ত ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও অপমানজনক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।২. ইরানের ওপর এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।৩. ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করতে হবে।৪. এছাড়া তেহরান দুটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের’ ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে—যার একটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং অন্যটি ছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।৬.
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার ইরানের কাছে বিভিন্ন সংঘাত ও হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে যারা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিশেষ করে ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনে ইউএসএস কোলের ওপর হামলায় নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবারের জন্য তিনি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সেই হামলার দায় আল-কায়েদার ওপর দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ইরানিদের পরিবার এবং লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজার ক্ষয়ক্ষতির দায়ও তেহরানকে নিতে হবে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষই এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের দাবি সামনে আনছে, যা আলোচনার পথকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নিগার মরতাজাভি মনে করেন, ট্রাম্পের নতুন দাবিগুলো কেবল বর্তমান সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলো তেহরানের জন্য চুক্তি মেনে নেওয়া কঠিন করে তুলবে। ওদিকে তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক হোসেন রয়ভারানের মতে, এখনকার সমীকরণটি ‘বন্ধ বনাম অবরোধ’-এ দাঁড়িয়েছে এবং উভয় দেশই অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক অসন্তোষের কারণে চাপের মুখে রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা সরাসরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, কিন্তু ইরানের দাবি তারা শুধু ওমানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালির নতুন নৌ চলাচলব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।



























