ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না, চুয়েটে মধ্যরাতে বিক্ষোভ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত বিচারকের আসনে রুহানী সালসাবিল, স্মৃতিকাতর উপস্থাপিকা অক্টোবরে শুরু হচ্ছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ: রোসাটম লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনে এমপির নির্দেশ, সাংবাদিক মহলে বিতর্ক শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার আহ্বান ‘সোলজার’ সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বাড়াচ্ছেন চিত্রনায়িকা ঐশী কেবিনে থাকলে বেঁচে ফিরতাম না: হরমুজে হামলার বর্ণনা বাংলাদেশি নাবিকের

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য, তথ্যনির্ভর, নির্মোহ ও সর্বজনগ্রাহ্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি। সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা অভিন্নভাবে মত দেন যে, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আবেগ, অনুমান কিংবা বিচ্ছিন্ন তথ্যের পরিবর্তে প্রামাণ্য দলিল, সরকারি ও সামরিক নথি, মুক্তিযুদ্ধকালীন রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য এবং গবেষণালব্ধ উপাত্তের সমন্বিত ও বহুমাত্রিক যাচাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্রুত সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা। এছাড়া গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, পরিবার, প্রশাসন, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আলোচনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান বীর উত্তম, সিপিবি’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আহসান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নইম জাহাঙ্গীরসহ বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। তারা স্থানীয় জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সমন্বয়, বিদ্যমান নথির পুনঃযাচাই এবং তথ্যের উৎস ও যাচাই-প্রক্রিয়া সংরক্ষণ করে একটি টেকসই জাতীয় তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বক্তারা আরও বলেন, রণাঙ্গনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী ও নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের তথ্যও যথাযথভাবে সংগ্রহ, যাচাই ও সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সশস্ত্র অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর জাতীয় অংশগ্রহণের ইতিহাসও যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব, জাতীয় আত্মপরিচয় এবং জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মন্ত্রণালয় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন এবং শহিদ ও বীরাঙ্গনাদের নির্ভুল তালিকা প্রস্তুতের লক্ষ্যে কাজ করছে। মন্ত্রী জানান, এ কাজে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক না থাকায় কোনো তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার দীর্ঘ কয়েক দশকে চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতেই সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ ও বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির অবকাশ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আজকের সভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনদের বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য প্রকৃত তালিকা তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। মন্ত্রী সভা শেষে জানান, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময়

আপডেট সময় : ১১:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য, তথ্যনির্ভর, নির্মোহ ও সর্বজনগ্রাহ্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি। সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা অভিন্নভাবে মত দেন যে, তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আবেগ, অনুমান কিংবা বিচ্ছিন্ন তথ্যের পরিবর্তে প্রামাণ্য দলিল, সরকারি ও সামরিক নথি, মুক্তিযুদ্ধকালীন রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য এবং গবেষণালব্ধ উপাত্তের সমন্বিত ও বহুমাত্রিক যাচাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্রুত সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা। এছাড়া গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, পরিবার, প্রশাসন, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আলোচনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান বীর উত্তম, সিপিবি’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আহসান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নইম জাহাঙ্গীরসহ বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। তারা স্থানীয় জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের সমন্বয়, বিদ্যমান নথির পুনঃযাচাই এবং তথ্যের উৎস ও যাচাই-প্রক্রিয়া সংরক্ষণ করে একটি টেকসই জাতীয় তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বক্তারা আরও বলেন, রণাঙ্গনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী ও নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের তথ্যও যথাযথভাবে সংগ্রহ, যাচাই ও সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সশস্ত্র অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর জাতীয় অংশগ্রহণের ইতিহাসও যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব, জাতীয় আত্মপরিচয় এবং জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মন্ত্রণালয় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন এবং শহিদ ও বীরাঙ্গনাদের নির্ভুল তালিকা প্রস্তুতের লক্ষ্যে কাজ করছে। মন্ত্রী জানান, এ কাজে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক না থাকায় কোনো তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার দীর্ঘ কয়েক দশকে চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতেই সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ ও বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির অবকাশ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আজকের সভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনদের বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য প্রকৃত তালিকা তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। মন্ত্রী সভা শেষে জানান, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin