ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবরে শুরু হচ্ছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ: রোসাটম লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনে এমপির নির্দেশ, সাংবাদিক মহলে বিতর্ক শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার আহ্বান ‘সোলজার’ সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বাড়াচ্ছেন চিত্রনায়িকা ঐশী কেবিনে থাকলে বেঁচে ফিরতাম না: হরমুজে হামলার বর্ণনা বাংলাদেশি নাবিকের রাজধানীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজ: ডিএমপির তালিকায় ১২৮০ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রকৃত তালিকা তৈরির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির রায়েরবাজার কবরস্থানে ককটেল সন্দেহে এসআরবি, বাণিজ্য মেলায়ও উদ্ধার আর্থিক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ১২৬১ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে বাজারে সিন্ডিকেট নয়, সুস্থ প্রতিযোগিতা জরুরি: প্রতিযোগিতা কমিশন

রাজধানীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজ: ডিএমপির তালিকায় ১২৮০ জনের নাম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানী ঢাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজরা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি থানায় চাঁদাবাজির ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ভুক্তভোগী মামলাও দায়ের করছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রায় ১২৮০ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে ১৪৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে মোট ৭২৩টি চাঁদাবাজির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে, এরপরই রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা। মোট ৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বাকি প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন। গত ২০ মাসে দায়ের করা ৩৬৫টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মামলায় আসামিদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকায় চাঁদাবাজির নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা সরাসরি মাঠে না নেমে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি পরিচালনা করছে। আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপরাধীদের শিশু হিসেবে গণ্য করায় কিশোরদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এ বিষয়ে বলেন, বিদ্যমান আইনে শিশুর বয়স ১৮ নির্ধারণ করা থাকলেও এই বয়সে তারা পুরোপুরি পরিণত। কিশোর গ্যাং সদস্যরা এই সুযোগ নিয়ে আদালতে জামিন পেয়ে যাচ্ছে, তাই শিশু আইনে বয়স কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডিএমপি’র করা তালিকায় চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ১২৮০ জনের নামের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা হিসেবে ৩১৪ জনের নাম রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের সক্রিয়তা গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে জিসান গ্রুপ, মেহেদী বাহিনী এবং রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারীদের মধ্যে শামীম, জাকির হোসেন, আবুল বাশার বাদশা, কায়সার, মহারাজ মিয়া, শফিকুল ইসলাম হেলালসহ আরও অনেকে রয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদাবাজিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে, যাদের নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা। অস্ত্রধারী চাঁদাবাজরা ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায় করে, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগী প্রাণনাশের ভয়ে থানায় মামলা করতে চান না। আবার যারা মামলা করেন, তারাও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে দ্রুত প্রতিকার পান না। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এ বিষয়ে বলেন, শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি বা গ্রেপ্তার করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না, বরং যারা এই অপরাধের সুবিধাভোগী তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজ: ডিএমপির তালিকায় ১২৮০ জনের নাম

আপডেট সময় : ০১:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজরা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি থানায় চাঁদাবাজির ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ভুক্তভোগী মামলাও দায়ের করছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রায় ১২৮০ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে ১৪৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে মোট ৭২৩টি চাঁদাবাজির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে, এরপরই রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা। মোট ৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বাকি প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন। গত ২০ মাসে দায়ের করা ৩৬৫টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মামলায় আসামিদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকায় চাঁদাবাজির নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা সরাসরি মাঠে না নেমে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি পরিচালনা করছে। আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপরাধীদের শিশু হিসেবে গণ্য করায় কিশোরদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এ বিষয়ে বলেন, বিদ্যমান আইনে শিশুর বয়স ১৮ নির্ধারণ করা থাকলেও এই বয়সে তারা পুরোপুরি পরিণত। কিশোর গ্যাং সদস্যরা এই সুযোগ নিয়ে আদালতে জামিন পেয়ে যাচ্ছে, তাই শিশু আইনে বয়স কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডিএমপি’র করা তালিকায় চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ১২৮০ জনের নামের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা হিসেবে ৩১৪ জনের নাম রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের সক্রিয়তা গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে জিসান গ্রুপ, মেহেদী বাহিনী এবং রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারীদের মধ্যে শামীম, জাকির হোসেন, আবুল বাশার বাদশা, কায়সার, মহারাজ মিয়া, শফিকুল ইসলাম হেলালসহ আরও অনেকে রয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদাবাজিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে, যাদের নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত চাঁদাবাজরা। অস্ত্রধারী চাঁদাবাজরা ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায় করে, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগী প্রাণনাশের ভয়ে থানায় মামলা করতে চান না। আবার যারা মামলা করেন, তারাও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে দ্রুত প্রতিকার পান না। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এ বিষয়ে বলেন, শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি বা গ্রেপ্তার করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না, বরং যারা এই অপরাধের সুবিধাভোগী তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin