ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এসএসসি পরীক্ষায় ধানমন্ডি থানায় রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অসামান্য সাফল্য প্রতিদিন কতটুকু রোদ পোহানো প্রয়োজন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৭৯ ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে রাশিয়া দলের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ বাতিল হবে: চিফ হুইপ আখেরি চাহার সোম্বা: আগামীকাল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এআই অবকাঠামোয় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য এনভিডিয়ার সব সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশ, পরিপত্র জারি ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট সরাসরি সম্প্রচার করবে ইসি জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগে আগ্রহী সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

প্রতিদিন কতটুকু রোদ পোহানো প্রয়োজন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সুস্থ থাকতে রোদ পোহানো অত্যন্ত জরুরি হলেও অতিরিক্ত রোদ ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই রোদকে পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে নিয়ম মেনে ও পরিমিতভাবে রোদ পোহানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সূর্যের আলো গায়ে লাগলে আমাদের শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করে, যা হাড় ও পেশি শক্তিশালী করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রাকৃতিক আলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে রাতে ভালো ঘুম হয় এবং সারাদিন শরীর চাঙ্গা থাকে।

ত্বকে অতিবেগুনি রশ্মি লাগলেই ভিটামিন ডি তৈরি হয়, তবে সবার শরীরে এটি একইভাবে কাজ করে না। মানুষের বয়স, ত্বকের রঙ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঋতুর ওপর এটি নির্ভর করে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেবেকা মেসন এ বিষয়ে জানান, ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় রোদে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং অল্প সময়ই যথেষ্ট। তবে যাদের ত্বক কিছুটা শ্যামলা বা কালো, তাদের ত্বকে প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরি হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে।

মানুষের মনের মেজাজ ও ঘুমের ওপরও প্রাকৃতিক আলোর বড় প্রভাব রয়েছে। সকালের রোদ মূলত আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ করে তোলে এবং দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত আলো না পেলে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন এবং মন খারাপ বা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন।

প্রতিদিন ঠিক কত মিনিট রোদে কাটাতে হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কারণ দেশ ও আবহাওয়া ভেদে সূর্যের তীব্রতা বা ইউভি ইনডেক্স (UV Index) ভিন্ন হয়। তাই শুধু ঘড়ির কাঁটা না দেখে সূর্যের ক্ষতিকর তেজ বা ইউভি ইনডেক্স খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বক খুব ফর্সা বা সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। সূর্যের তেজ বেশি থাকলে শরীর ঢেকে রাখা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

অতিরিক্ত রোদ গায়ে লাগালে শরীর কিন্তু সীমাহীন ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে না, উল্টো ক্ষতিকর উপাদান জমতে থাকে। অতিরিক্ত রোদের কারণে ত্বকে পোড়া দাগ, বয়সের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে, তাই তীব্র রোদে বাইরে বের হলে ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

অন্যদিকে যারা সারাদিন ঘরে থাকেন বা রোদ পান না, তারা ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে পড়তে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি হাড়কে দুর্বল করে দেয়। তবে রোদ ছাড়াও খাবার এবং সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোয়ান ম্যানসন দীর্ঘ সময় রোদে থাকার ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাই বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো—রোদকে ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে পরিমিত রোদ পোহাতে হবে এবং অতিবেগুনি রশ্মির ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রতিদিন কতটুকু রোদ পোহানো প্রয়োজন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

সুস্থ থাকতে রোদ পোহানো অত্যন্ত জরুরি হলেও অতিরিক্ত রোদ ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই রোদকে পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে নিয়ম মেনে ও পরিমিতভাবে রোদ পোহানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সূর্যের আলো গায়ে লাগলে আমাদের শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করে, যা হাড় ও পেশি শক্তিশালী করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রাকৃতিক আলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে রাতে ভালো ঘুম হয় এবং সারাদিন শরীর চাঙ্গা থাকে।

ত্বকে অতিবেগুনি রশ্মি লাগলেই ভিটামিন ডি তৈরি হয়, তবে সবার শরীরে এটি একইভাবে কাজ করে না। মানুষের বয়স, ত্বকের রঙ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঋতুর ওপর এটি নির্ভর করে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেবেকা মেসন এ বিষয়ে জানান, ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় রোদে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং অল্প সময়ই যথেষ্ট। তবে যাদের ত্বক কিছুটা শ্যামলা বা কালো, তাদের ত্বকে প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরি হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে।

মানুষের মনের মেজাজ ও ঘুমের ওপরও প্রাকৃতিক আলোর বড় প্রভাব রয়েছে। সকালের রোদ মূলত আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ করে তোলে এবং দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত আলো না পেলে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন এবং মন খারাপ বা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন।

প্রতিদিন ঠিক কত মিনিট রোদে কাটাতে হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কারণ দেশ ও আবহাওয়া ভেদে সূর্যের তীব্রতা বা ইউভি ইনডেক্স (UV Index) ভিন্ন হয়। তাই শুধু ঘড়ির কাঁটা না দেখে সূর্যের ক্ষতিকর তেজ বা ইউভি ইনডেক্স খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বক খুব ফর্সা বা সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। সূর্যের তেজ বেশি থাকলে শরীর ঢেকে রাখা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

অতিরিক্ত রোদ গায়ে লাগালে শরীর কিন্তু সীমাহীন ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে না, উল্টো ক্ষতিকর উপাদান জমতে থাকে। অতিরিক্ত রোদের কারণে ত্বকে পোড়া দাগ, বয়সের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে, তাই তীব্র রোদে বাইরে বের হলে ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

অন্যদিকে যারা সারাদিন ঘরে থাকেন বা রোদ পান না, তারা ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে পড়তে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি হাড়কে দুর্বল করে দেয়। তবে রোদ ছাড়াও খাবার এবং সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোয়ান ম্যানসন দীর্ঘ সময় রোদে থাকার ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাই বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো—রোদকে ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে পরিমিত রোদ পোহাতে হবে এবং অতিবেগুনি রশ্মির ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor