ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট, সিদ্ধান্ত কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম আপসহীন ছিলেন: মির্জা ফখরুল বুদ্ধিজীবী ও স্বৈরাচারের সখ্য: ক্ষমতার মোহে সততার বিসর্জন জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব আছে কিন্তু জিয়া নেই, ব্যাখ্যায় বিতর্ক সাভারে বিএনপি নেতাকে কাফনের কাপড় ও গুলি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি গাজীপুরে ১১ লাখ টাকার বিদেশি মদসহ আটক ২ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মানবিকতার সঙ্গে সেবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল পেমেন্টে জালনোটের ঝুঁকি কমবে, সাশ্রয় হবে অর্থ: গভর্নর সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহে বড় ধস, বিপাকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সন্তানের অভিভাবকত্ব পেতে আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা শোনালেন চার মা

দিল্লিতে ৫০ হাজার বিক্ষোভকারীর ঢল, পুলিশের ভুল হিসাবে নিরাপত্তা বিপর্যয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পেছনে পুলিশের ভুল হিসাবকে দায়ী করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, বিক্ষোভে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ জড়ো হলে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী চরম চাপের মুখে পড়ে। যদিও পুলিশ যন্তর-মন্তর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোড ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড স্থাপন করেছিল, তবে বিপুল সংখ্যক জনস্রোতের কাছে সেসব ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, যন্তর-মন্তরে তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। সোমবার সকালে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সাত থেকে আট হাজার হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু দিনের শুরুতেই সেই হিসাব সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সও (সিআইএসএফ) পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি আশা করেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুই হাজার সদস্য এবং ৩২ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছিল। কিন্তু সোমবার সকালেই যন্তর-মন্তরে ১৫ হাজার মানুষ জড়ো হলে দিল্লির ১৪টি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। সদর দপ্তর থেকে দুইজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারও দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। আয়োজকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল পার্লামেন্টের দিকে বিক্ষোভকারীদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়নি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে জুতা, পানির বোতল, পাথর ও গাছের ডালপালা ছুড়ে মারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি ও পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই জনসমাগম দ্রুত বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে ৫০ হাজার বিক্ষোভকারীর ঢল, পুলিশের ভুল হিসাবে নিরাপত্তা বিপর্যয়

আপডেট সময় : ০২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
print news

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পেছনে পুলিশের ভুল হিসাবকে দায়ী করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, বিক্ষোভে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ জড়ো হলে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী চরম চাপের মুখে পড়ে। যদিও পুলিশ যন্তর-মন্তর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোড ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড স্থাপন করেছিল, তবে বিপুল সংখ্যক জনস্রোতের কাছে সেসব ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, যন্তর-মন্তরে তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। সোমবার সকালে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সাত থেকে আট হাজার হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু দিনের শুরুতেই সেই হিসাব সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সও (সিআইএসএফ) পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি আশা করেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুই হাজার সদস্য এবং ৩২ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছিল। কিন্তু সোমবার সকালেই যন্তর-মন্তরে ১৫ হাজার মানুষ জড়ো হলে দিল্লির ১৪টি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও কর্মকর্তাদের তলব করা হয়। সদর দপ্তর থেকে দুইজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারও দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। আয়োজকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল পার্লামেন্টের দিকে বিক্ষোভকারীদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়নি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে জুতা, পানির বোতল, পাথর ও গাছের ডালপালা ছুড়ে মারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি ও পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই জনসমাগম দ্রুত বাড়তে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din