ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত, আহত ৭ বাংলা কিউআর লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯৯ অপারেটর নিয়োগের সরকারি আদেশ পাঁচ দিনেও পায়নি বিপিসি পুতিন কেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছেন: ক্ষমতার রাজনীতি ও বাস্তবতা ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, জানালেন কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু আজ বাসযাত্রায় তুলনামূলক নিরাপদ যে সারির আসন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি: বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য আঙিনায় এক ভ্রমণ

পরীক্ষা ব্যবস্থা নির্ভুল করার আহ্বান মোদির, মিছিল স্থগিত আন্দোলনকারীদের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র বিক্ষোভের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় দেশটির পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভারতের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেছেন যে, পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশে কোনো বিলম্ব হয়নি। মোদির ভাষ্যমতে, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে একটি নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই বিপর্যয়ের কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এরই প্রতিবাদে সোমবার হাজারো তরুণ-তরুণী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে।

মঙ্গলবার সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না। পুলিশি হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। এদিন দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। অভিজিৎ দিপক বিশেষ করে নারী সমর্থকদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এদিকে দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সহিংস আচরণ করেছে।

এই আন্দোলনের সঙ্গে পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন যুক্ত হওয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ২৮ জুন অনশন শুরু করা ওয়াংচুককে শনিবার পুলিশ জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা মঙ্গলবার দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সিজেপির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান হতাশা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

পরীক্ষা ব্যবস্থা নির্ভুল করার আহ্বান মোদির, মিছিল স্থগিত আন্দোলনকারীদের

আপডেট সময় : ০৫:২২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র বিক্ষোভের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় দেশটির পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভারতের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেছেন যে, পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশে কোনো বিলম্ব হয়নি। মোদির ভাষ্যমতে, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে একটি নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই বিপর্যয়ের কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এরই প্রতিবাদে সোমবার হাজারো তরুণ-তরুণী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে।

মঙ্গলবার সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না। পুলিশি হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। এদিন দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। অভিজিৎ দিপক বিশেষ করে নারী সমর্থকদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এদিকে দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সহিংস আচরণ করেছে।

এই আন্দোলনের সঙ্গে পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন যুক্ত হওয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ২৮ জুন অনশন শুরু করা ওয়াংচুককে শনিবার পুলিশ জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা মঙ্গলবার দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সিজেপির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান হতাশা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin