ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, সরাতেই লাগবে ১০ বছর এরদোগানকে কাঠগড়ায় তুলতে আইসিসিতে মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত, আহত ৭ বাংলা কিউআর লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৯৯ অপারেটর নিয়োগের সরকারি আদেশ পাঁচ দিনেও পায়নি বিপিসি পুতিন কেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছেন: ক্ষমতার রাজনীতি ও বাস্তবতা ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, জানালেন কারণ

অপারেটর নিয়োগের সরকারি আদেশ পাঁচ দিনেও পায়নি বিপিসি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রকল্প এসপিএমের (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) ওপর থেকে শনির দশা যেন কাটছেই না। নির্মাণপর্ব শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পাঁচ দিন পরও সরকারি লিখিত আদেশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) পৌঁছায়নি। ফলে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।

বিপিসি সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসপিএম উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়। দ্রুত ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল পরিবহনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলেও ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। ২০২৪ সালের মার্চে কমিশনিং সম্পন্ন হলেও পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অভাবে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, যা জ্বালানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টাল’কে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এক হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার এই ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বিপিসি দাপ্তরিক চিঠি পায়নি। বিপিসির জিএম প্ল্যানিং নঈম উল্লাহ জানান, লিখিত অনুমোদনপত্র পাওয়ার পর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ২৮ থেকে ৩০ দিন লাগবে। এরপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বুঝে নেওয়ার জন্য আরও এক মাস সময় নেবে এবং অপারেশন শুরু করতে অন্তত তিন মাস লাগবে। ফলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হলেও মার্চের আগে পাইপলাইনে তেল আনা সম্ভব হবে না।

প্রকল্পটি চালু হলে বছরে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং দুই লাখ টন জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে তেল খালাস করতে ১১ থেকে ১২ দিন সময় লাগে, যা এই প্রকল্পে মাত্র দুই দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব। ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত জানান, প্রকল্পটি চালু হলে মাদার ভেসেলের ডেমারেজ চার্জ বাঁচবে এবং লাইটার জাহাজের সিস্টেম লস দূর হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পাঁচ দিন দেরি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আরও বলেন, গত সরকার শুধু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কিন্তু অপারেশনের উদ্যোগ নেয়নি, যার খেসারত তিন বছর ধরে দিতে হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কথা বিবেচনা করে প্রকল্পটি যত দ্রুত সম্ভব অপারেশনে আনার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৫৫আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ০৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

অপারেটর নিয়োগের সরকারি আদেশ পাঁচ দিনেও পায়নি বিপিসি

আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রকল্প এসপিএমের (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) ওপর থেকে শনির দশা যেন কাটছেই না। নির্মাণপর্ব শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পাঁচ দিন পরও সরকারি লিখিত আদেশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) পৌঁছায়নি। ফলে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।

বিপিসি সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসপিএম উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়। দ্রুত ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল পরিবহনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলেও ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। ২০২৪ সালের মার্চে কমিশনিং সম্পন্ন হলেও পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অভাবে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, যা জ্বালানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টাল’কে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এক হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার এই ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বিপিসি দাপ্তরিক চিঠি পায়নি। বিপিসির জিএম প্ল্যানিং নঈম উল্লাহ জানান, লিখিত অনুমোদনপত্র পাওয়ার পর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ২৮ থেকে ৩০ দিন লাগবে। এরপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বুঝে নেওয়ার জন্য আরও এক মাস সময় নেবে এবং অপারেশন শুরু করতে অন্তত তিন মাস লাগবে। ফলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হলেও মার্চের আগে পাইপলাইনে তেল আনা সম্ভব হবে না।

প্রকল্পটি চালু হলে বছরে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং দুই লাখ টন জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে তেল খালাস করতে ১১ থেকে ১২ দিন সময় লাগে, যা এই প্রকল্পে মাত্র দুই দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব। ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত জানান, প্রকল্পটি চালু হলে মাদার ভেসেলের ডেমারেজ চার্জ বাঁচবে এবং লাইটার জাহাজের সিস্টেম লস দূর হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পাঁচ দিন দেরি হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আরও বলেন, গত সরকার শুধু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কিন্তু অপারেশনের উদ্যোগ নেয়নি, যার খেসারত তিন বছর ধরে দিতে হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কথা বিবেচনা করে প্রকল্পটি যত দ্রুত সম্ভব অপারেশনে আনার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৫৫আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ০৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh