লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার মতো প্রচলিত রপ্তানি বাজারগুলোতে চাহিদা কমে আসায় বাংলাদেশ এখন লাতিন আমেরিকার সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে। ঢাকা এই অঞ্চলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও চামড়াজাত সামগ্রী রপ্তানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। লাতিন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ল্যাবসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শওকত আফসার জানান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের বড় বাজার তৈরির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) ও ল্যাবসিআই সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর খাদ্যশস্যের সংকট দেখা দিলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে চিনি, সয়াবিন ও গম আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশ। এর বিপরীতে এসব দেশে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা চলছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৮৭ থেকে ২১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও একই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হলেও আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ভারসাম্যহীনতা কমাতে বিজিএমইএ ও বিসিআই নেতারা আর্জেন্টিনার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক জোট ‘মারকোসুর’-এর বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে উরুগুয়েকে একটি গেটওয়ে হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারকরা। উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং উল বা ভেড়ার পশম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল এবং প্যারাগুয়ের কাঠ ও মসলার বাজারকেও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ভৌগোলিক বাজারে প্রবেশকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বুয়েনস আইরেসে নতুন দূতাবাস স্থাপন ও নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা বাণিজ্য সম্পর্ক বহুমুখী করতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের সংকট দেখা দিলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে চিনি, সয়াবিন ও গম আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশ।





























