ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প পুলিশের ১৪ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার রদবদল গাজী নজরুলের বিষয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা জানালো জামায়াত মোদি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি বাংলা কিউআর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে রূপালী ব্যাংকের প্রচারণা অবসরের ইঙ্গিত দিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অসুস্থ স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ইউসিটিসি ড্রামা ক্লাবের ‘নিমফুল’ মঞ্চায়ন মেসি আমার আদর্শ, তাকে হারতে দেখাটা কষ্টের: কুবার্সি মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিক্ষোভ, প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

গণপূর্তের প্রকৌশলী শফিউলের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্তের সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিউল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়িতে অবস্থিত এই কার্যালয়টিতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তেজগাঁওয়ের ৭ নং ওয়ার্ড তেজকুনিপাড়া ও তেজগাঁও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার জামাল হোসেনের সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার শরিফুল ইসলাম মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও এই কার্যালয়ে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। পাবনা জেলার বাসিন্দা শফিউল ইসলাম বিগত সময়ে রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে দাপট দেখালেও বর্তমানে নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ঠিকাদাররা মনে করছেন, এই রাজনৈতিক পরিচয় কেবলই তার দুর্নীতি ও অনৈতিক বাণিজ্য আড়াল করার ঢাল। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করে পরিবারসহ বসবাস করছেন। এই সিন্ডিকেটের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত কাজ করছেন। এই ত্রিমুখী চক্রের কাছে সাধারণ ও তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

এলেনবাড়ি সম্পদ বিভাগে যখনই কোনো কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়, তখনই ঠিকাদার জামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠানের সাথে গোপন আঁতাত করে ত্রুটিপূর্ণ শর্ত যুক্ত করে প্রাক্কলন বা ইস্টিমেট তৈরি করা হয়। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না এবং দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়েন, যা তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি বাসভবন ও ভিআইপি কোয়ার্টার মেরামত ও আধুনিকায়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। উল্টো ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ অর্থ উত্তোলনপূর্বক তা সিন্ডিকেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে দুটি বড় টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বঞ্চিত ঠিকাদারদের দাবি, সুইমিংপুলের মেরামত ও আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত টেন্ডারগুলোতে প্রাক-যোগ্যতার শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে প্রায় ২৫ জন যোগ্য ঠিকাদার দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছেন। গত ৪ মে প্রকাশিত সুইমিংপুলের কাজ এবং পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন ভবন ১ ও ২-এর সংস্কার কাজের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ১ নং ভবনে বসবাসরত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তাদের বহুতল ভবনে কোনো ধরনের সংস্কার, রং বা মেরামতের কাজ করা হয়নি, অথচ নথিপত্রে সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের দরপত্র প্রক্রিয়াটিও একটি এজেন্সির অনুকূলে দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট ব্যাকডোর ডিল সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর অনুসরণের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও গণপূর্তের এই শাখায় তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে সরকারি কর্মকর্তারা যখনই তাদের ভোল পাল্টে কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি সচল রাখেন, তখন তা সুশাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এলেনবাড়ি সম্পদ বিভাগের ফাইলপত্র ও টেন্ডার প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করতে দ্রুত একটি তদন্ত দল পাঠানো হবে। এদিকে সকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল ইসলামের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং তার কার্যালয়ে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গণপূর্তের প্রকৌশলী শফিউলের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:২০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
print news

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্তের সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিউল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়িতে অবস্থিত এই কার্যালয়টিতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তেজগাঁওয়ের ৭ নং ওয়ার্ড তেজকুনিপাড়া ও তেজগাঁও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার জামাল হোসেনের সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার শরিফুল ইসলাম মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও এই কার্যালয়ে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। পাবনা জেলার বাসিন্দা শফিউল ইসলাম বিগত সময়ে রাষ্ট্রপতির প্রভাব খাটিয়ে দাপট দেখালেও বর্তমানে নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ঠিকাদাররা মনে করছেন, এই রাজনৈতিক পরিচয় কেবলই তার দুর্নীতি ও অনৈতিক বাণিজ্য আড়াল করার ঢাল। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করে পরিবারসহ বসবাস করছেন। এই সিন্ডিকেটের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত কাজ করছেন। এই ত্রিমুখী চক্রের কাছে সাধারণ ও তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

এলেনবাড়ি সম্পদ বিভাগে যখনই কোনো কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়, তখনই ঠিকাদার জামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠানের সাথে গোপন আঁতাত করে ত্রুটিপূর্ণ শর্ত যুক্ত করে প্রাক্কলন বা ইস্টিমেট তৈরি করা হয়। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না এবং দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়েন, যা তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি বাসভবন ও ভিআইপি কোয়ার্টার মেরামত ও আধুনিকায়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। উল্টো ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ অর্থ উত্তোলনপূর্বক তা সিন্ডিকেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে দুটি বড় টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বঞ্চিত ঠিকাদারদের দাবি, সুইমিংপুলের মেরামত ও আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত টেন্ডারগুলোতে প্রাক-যোগ্যতার শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে প্রায় ২৫ জন যোগ্য ঠিকাদার দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছেন। গত ৪ মে প্রকাশিত সুইমিংপুলের কাজ এবং পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন ভবন ১ ও ২-এর সংস্কার কাজের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ১ নং ভবনে বসবাসরত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তাদের বহুতল ভবনে কোনো ধরনের সংস্কার, রং বা মেরামতের কাজ করা হয়নি, অথচ নথিপত্রে সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের দরপত্র প্রক্রিয়াটিও একটি এজেন্সির অনুকূলে দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট ব্যাকডোর ডিল সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর অনুসরণের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও গণপূর্তের এই শাখায় তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে সরকারি কর্মকর্তারা যখনই তাদের ভোল পাল্টে কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি সচল রাখেন, তখন তা সুশাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এলেনবাড়ি সম্পদ বিভাগের ফাইলপত্র ও টেন্ডার প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করতে দ্রুত একটি তদন্ত দল পাঠানো হবে। এদিকে সকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল ইসলামের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং তার কার্যালয়ে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh