ন্যাটো দেশে রাশিয়ার ‘সীমিত’ হামলার সতর্কতা ডেনমার্কের
- আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি (PET) সতর্ক করেছে যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ন্যাটোর এক বা একাধিক সদস্য রাষ্ট্রে ‘সীমিত’ আকারে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। ইউক্রেনকে সহায়তাকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হতে পারে, যার উদ্দেশ্য ইউরোপের মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং ন্যাটোর মধ্যে ফাটল ধরানো।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক মূল্যায়নে পিইটি জানায়, হামলার ঝুঁকি বর্তমানে ‘কম’ হলেও তা দিন দিন বাড়ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিবর্তে দূরপাল্লার প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও শিল্প অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিচ্ছিন্ন হামলা চালানো হতে পারে। হামলার পর রাশিয়া দাবি করতে পারে যে, ইউক্রেনের কোনো পদক্ষেপের কারণে অস্ত্রের গতিপথ বদলে ন্যাটোর ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।
ইউরোপে রাশিয়ার এই হাইব্রিড হুমকি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রুশ হাইব্রিড হুমকি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে তাঁর দেশ বা কোনো মিত্র দেশের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে এই সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি গত ৫ আগস্ট জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ইউক্রেনগামী একটি কার্গো বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনা ঘটে, যার জন্য জার্মানি রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
তবে সব ইউরোপীয় নেতা এই হুমকিকে একইভাবে দেখছেন না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রুশ হুমকি বৃদ্ধির কথা বললেও সুইডেনের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মস্কোর হুমকি ও নাশকতা নিয়ে ‘অতিরঞ্জিত’ প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, রাশিয়া তার সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো দেশে সীমিতসংখ্যক অজ্ঞাত সামরিক সদস্য মোতায়েন করতে পারে, যা ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময় মস্কোর কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় আকারের আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে রাশিয়ার অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে দ্রুত উৎপাদন চললেও বিপুলসংখ্যক নতুন পদাতিক সেনা সংগ্রহ করা মস্কোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডেনিশ গোয়েন্দারা মনে করছেন, ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে রাশিয়ার নিজস্ব হিসাব-নিকাশই বড় উদ্বেগের কারণ। মস্কো যদি মনে করে যে সীমিত হামলার জবাবে জোট ঐক্যবদ্ধ থাকবে না, তবে হামলার ঝুঁকি আরও বাড়বে। অবশ্য কোন ধরনের হামলার ক্ষেত্রে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘আর্টিকেল ৫’ সক্রিয় হবে, সে বিষয়েও রাশিয়া নিশ্চিত নয়।



























