ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্লপ ও জাভির নতুন শুরুর ম্যাচে ড্র জার্মানি-নেদারল্যান্ডসের ছাতকে ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ ট্রাম্প-শি বৈঠক: বিশ্বমঞ্চে দুই পরাশক্তির নতুন সমীকরণ ন্যাটো দেশে রাশিয়ার ‘সীমিত’ হামলার সতর্কতা ডেনমার্কের এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ, ঘুচল বাংলাদেশের ৪০ বছরের অপেক্ষা বয়স লুকিয়ে পর্দায় অভিনয় করবেন না দীপা খন্দকার হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে এনসিপি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ পল্টন থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করল ডিএসসিসি নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই জাতিসংঘে প্রতিনিধিদের গণ-ওয়াকআউট জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ, ঘুচল বাংলাদেশের ৪০ বছরের অপেক্ষা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ০০ (25 September 2026, 05:00)

জাপানের নাগোয়ার আইচি প্রিফেকচুরাল মার্শাল আর্টস হলের বিজয় মঞ্চে যখন বাংলাদেশের পতাকা উড়ছিল, তখন জিন্নাত আক্তারের গলায় ঝুলছিল ঐতিহাসিক এক ব্রোঞ্জ পদক। এশিয়ান গেমসের নারীদের ৫২ কেজি সান্দা ইভেন্টে এই পদক জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল। ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ হোসেনের ব্রোঞ্জ জয়ের পর এই প্রথম ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে পদক পেল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার সকালে আইচি প্রিফেকচুরাল মার্শাল আর্টস হলের ভেতরে একে একে পাঁচটি ইভেন্টের ফাইনাল শেষে যখন বিজয় মঞ্চ তৈরি হয়, তখন সেখানে এসে দাঁড়ান বাংলাদেশের উশুকা জিন্নাত আক্তার। এ সময় তার পাশে ছিলেন উশু ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, কোচ এবং এই আনন্দের মুহূর্তটির সাক্ষী হতে আসা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়ের রানা। গলায় এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক পরিয়ে দেওয়ার পর জিন্নাতের চোখে ছিল জল আর ঠোঁটে ছিল চাপা হাসি। চলমান এই এশিয়ান গেমসে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক।

জিন্নাতের এই পদক জয়ের পথটি ছিল বেশ নাটকীয়। টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে সরাসরি পরের ধাপে উঠে যান তিনি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালেও তাকে লড়তে হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিপক্ষ থারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনা নির্ধারিত ওজনের মধ্যে থাকতে না পেরে ডিসকোয়ালিফাই বা অযোগ্য ঘোষিত হন। ফলে না খেলেই সেমিফাইনাল এবং সেই সঙ্গে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়ে যায় জিন্নাতের।

তবে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে চাননি জিন্নাত। স্বর্ণ বা রুপার লড়াইয়ে চোখ রেখে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালের ম্যাটে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ উ দি-র কাছে ০-৪ ব্যবধানে হেরে তার ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়। এই ইভেন্টে তৃতীয় স্থান নির্ধারণের কোনো বাড়তি ম্যাচ না থাকায় সেমিফাইনালে পরাজিত জিন্নাত এবং হংকংয়ের চ্যান তসজিং-চিং যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে জিন্নাতের তীব্র লড়াই আর দেশের উশু খেলার সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশে উশু খেলোয়াড়দের সারা বছর অনুশীলনের জন্য কোনো স্থায়ী ভেন্যু নেই, নেই উন্নত প্রশিক্ষণ বা আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির সুযোগ। অভিজ্ঞ কোচিং সুবিধার অভাব সত্ত্বেও এশিয়ার সেরা মঞ্চে পদক জিতেছেন তিনি। পদক জয়ের পর জিন্নাত নিজের চেয়ে উশুর উন্নয়নের দিকেই বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি উশু খেলোয়াড়দের জন্য বছরব্যাপী অনুশীলনের সুযোগ, একটি স্থায়ী ভেন্যু, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচের দাবি জানান।

আইচি প্রিফেকচুরাল মার্শাল আর্টস হল থেকে যখন জিন্নাত বের হচ্ছিলেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল স্বস্তি। চলমান এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে এখনো আর্চারি ও পুরুষ ক্রিকেটের মতো ইভেন্টে পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে জিন্নাত আক্তার যে ইতিহাস গড়েছেন, তা দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ, ঘুচল বাংলাদেশের ৪০ বছরের অপেক্ষা

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ০০ (25 September 2026, 05:00)

জাপানের নাগোয়ার আইচি প্রিফেকচুরাল মার্শাল আর্টস হলের বিজয় মঞ্চে যখন বাংলাদেশের পতাকা উড়ছিল, তখন জিন্নাত আক্তারের গলায় ঝুলছিল ঐতিহাসিক এক ব্রোঞ্জ পদক। এশিয়ান গেমসের নারীদের ৫২ কেজি সান্দা ইভেন্টে এই পদক জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল। ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ হোসেনের ব্রোঞ্জ জয়ের পর এই প্রথম ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে পদক পেল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার সকালে আইচি প্রিফেকচুরাল মার্শাল আর্টস হলের ভেতরে একে একে পাঁচটি ইভেন্টের ফাইনাল শেষে যখন বিজয় মঞ্চ তৈরি হয়, তখন সেখানে এসে দাঁড়ান বাংলাদেশের উশুকা জিন্নাত আক্তার। এ সময় তার পাশে ছিলেন উশু ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, কোচ এবং এই আনন্দের মুহূর্তটির সাক্ষী হতে আসা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়ের রানা। গলায় এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক পরিয়ে দেওয়ার পর জিন্নাতের চোখে ছিল জল আর ঠোঁটে ছিল চাপা হাসি। চলমান এই এশিয়ান গেমসে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক।

জিন্নাতের এই পদক জয়ের পথটি ছিল বেশ নাটকীয়। টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে সরাসরি পরের ধাপে উঠে যান তিনি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালেও তাকে লড়তে হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিপক্ষ থারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনা নির্ধারিত ওজনের মধ্যে থাকতে না পেরে ডিসকোয়ালিফাই বা অযোগ্য ঘোষিত হন। ফলে না খেলেই সেমিফাইনাল এবং সেই সঙ্গে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়ে যায় জিন্নাতের।

তবে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে চাননি জিন্নাত। স্বর্ণ বা রুপার লড়াইয়ে চোখ রেখে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালের ম্যাটে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু চীনের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ উ দি-র কাছে ০-৪ ব্যবধানে হেরে তার ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়। এই ইভেন্টে তৃতীয় স্থান নির্ধারণের কোনো বাড়তি ম্যাচ না থাকায় সেমিফাইনালে পরাজিত জিন্নাত এবং হংকংয়ের চ্যান তসজিং-চিং যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে জিন্নাতের তীব্র লড়াই আর দেশের উশু খেলার সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশে উশু খেলোয়াড়দের সারা বছর অনুশীলনের জন্য কোনো স্থায়ী ভেন্যু নেই, নেই উন্নত প্রশিক্ষণ বা আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির সুযোগ। অভিজ্ঞ কোচিং সুবিধার অভাব সত্ত্বেও এশিয়ার সেরা মঞ্চে পদক জিতেছেন তিনি। পদক জয়ের পর জিন্নাত নিজের চেয়ে উশুর উন্নয়নের দিকেই বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি উশু খেলোয়াড়দের জন্য বছরব্যাপী অনুশীলনের সুযোগ, একটি স্থায়ী ভেন্যু, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচের দাবি জানান।

আইচি প্রিফেকচুরাল মার্শাল আর্টস হল থেকে যখন জিন্নাত বের হচ্ছিলেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল স্বস্তি। চলমান এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে এখনো আর্চারি ও পুরুষ ক্রিকেটের মতো ইভেন্টে পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে জিন্নাত আক্তার যে ইতিহাস গড়েছেন, তা দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh